ঢাকা ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

শেষ ওভারের রোমাঞ্চে নোয়াখালীকে হারালো সিলেট

বিপিএলের চতুর্থ ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ১ উইকেটে হারিয়েছে সিলেট টাইটান্স। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে একেবারে শেষ বলে।  

শুরুতে ব্যাটিংটা দুঃস্বপ্নের ছিল নোয়াখালীর। টস হেরে সিলেটের বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে তাদের টপ অর্ডার। প্রথম বলে মোহাম্মদ আমিরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাজ সাদাকাত। এরপর কোনও রান না করে ফিরে যান হাবিবুর রহমান সোহান ও হায়দার আলী।

দুই ওভারের মধ্যেই ৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে নোয়াখালী। অধিনায়ক সৈকত আলী ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ২৯ বলে তার ২৪ রান গতি আনতে পারেনি। এক প্রান্ত আগলে রাখেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। চাপ সামলে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন তিনি। শেষদিকে জাকের আলীর ১৭ বলে ঝড়ো ২৯ রানে কিছুটা গতি পায় নোয়াখালীর ইনিংস। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে নোয়াখালীকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি খালেদ আহমেদ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানে থামে নোয়াখালী।

সিলেটের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন খালেদ আহমেদ। ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা তিনি। এছাড়া মোহাম্মদ আমির নেন একটি উইকেট, সাইম আইয়ুব নেন দুটি। 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সিলেট টাইটান্সও ভালো শুরু পায়নি। সাইম আইয়ুব শূন্য রানে আউট হন। দ্রুত ফিরে যান রনি তালুকদার ও জাকির হাসান। তাতে রান তাড়াতে চাপে পড়ে যায় সিলেট।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন পারভেজ হোসেন ইমন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৪১ বলে ৬০ রান করেন তিনি। তাতে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৭ বলে ৩৩ রান করে তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন। ৩ উইকেটে ১১৭ রান তুলে জয়ের পথে বেশ স্বস্তিতেই ছিল তারা। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। ইমন আউট হওয়ার পর একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে নোয়াখালী। মেহেদী হাসান রানা দেখান ম্যাজিক। হ্যাটট্রিকসহ চার উইকেট নেন তিনি। সঙ্গে চাপ ধরে রাখেন হাসান মাহমুদ ও জহির খানও। তাতে মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সিলেট। শেষ ওভার জন্ম দেয় টান টান উত্তেজনার। ৬ বলে দরকার ছিল ১৩ রান। হাতে দুই উইকেট। প্রথম দুই বলে ডট দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন সাব্বির হোসেন। তৃতীয় ডেলিভারিটি নো দিলে পরের দুই বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে সিলেটকে ম্যাচে ফেরান ইথান ব্রুকস। পঞ্চম বলে ইথান ব্রুকস (১৬) দৌড়ে রান নিতে গিয়ে জাকের আলীর সরাসরি থ্রোতে রানআউট হলে আবার ম্যাচ নোয়াখালীর দিকে হেলে পড়ে। ১ বলে তখন দরকার ২ রান। কিন্তু পরের ডেলিভারিটি ওয়াইড দিয়ে ম্যাচ হাত থেকে ফসকে যেতে দেন সাব্বির। ষষ্ঠ বৈধ ডেলিভারিতে লেগ বাই থেকে দৌড়ে রান নিয়ে শেষ হাসি হাসে সিলেট। 

৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন মেহেদী হাসান রানা। ১৯ রানে দুটি নেন হাসান মাহমুদ। একটি করে নিয়েছেন রেজাউর রহমান রাজা ও জহির খান। 

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডায়াবেটিস রোগীদের রোজা: কখন, কতবার ও কেন রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা জরুরি?

শেষ ওভারের রোমাঞ্চে নোয়াখালীকে হারালো সিলেট

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বিপিএলের চতুর্থ ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ১ উইকেটে হারিয়েছে সিলেট টাইটান্স। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে একেবারে শেষ বলে।  

শুরুতে ব্যাটিংটা দুঃস্বপ্নের ছিল নোয়াখালীর। টস হেরে সিলেটের বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে তাদের টপ অর্ডার। প্রথম বলে মোহাম্মদ আমিরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাজ সাদাকাত। এরপর কোনও রান না করে ফিরে যান হাবিবুর রহমান সোহান ও হায়দার আলী।

দুই ওভারের মধ্যেই ৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে নোয়াখালী। অধিনায়ক সৈকত আলী ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ২৯ বলে তার ২৪ রান গতি আনতে পারেনি। এক প্রান্ত আগলে রাখেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। চাপ সামলে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন তিনি। শেষদিকে জাকের আলীর ১৭ বলে ঝড়ো ২৯ রানে কিছুটা গতি পায় নোয়াখালীর ইনিংস। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে নোয়াখালীকে বড় সংগ্রহ গড়তে দেননি খালেদ আহমেদ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানে থামে নোয়াখালী।

সিলেটের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন খালেদ আহমেদ। ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা তিনি। এছাড়া মোহাম্মদ আমির নেন একটি উইকেট, সাইম আইয়ুব নেন দুটি। 

জবাবে ব্যাট করতে নেমে সিলেট টাইটান্সও ভালো শুরু পায়নি। সাইম আইয়ুব শূন্য রানে আউট হন। দ্রুত ফিরে যান রনি তালুকদার ও জাকির হাসান। তাতে রান তাড়াতে চাপে পড়ে যায় সিলেট।

এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন পারভেজ হোসেন ইমন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৪১ বলে ৬০ রান করেন তিনি। তাতে ছিল ৬টি চার ও ২টি ছক্কা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৭ বলে ৩৩ রান করে তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন। ৩ উইকেটে ১১৭ রান তুলে জয়ের পথে বেশ স্বস্তিতেই ছিল তারা। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। ইমন আউট হওয়ার পর একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসে নোয়াখালী। মেহেদী হাসান রানা দেখান ম্যাজিক। হ্যাটট্রিকসহ চার উইকেট নেন তিনি। সঙ্গে চাপ ধরে রাখেন হাসান মাহমুদ ও জহির খানও। তাতে মাত্র ২৫ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সিলেট। শেষ ওভার জন্ম দেয় টান টান উত্তেজনার। ৬ বলে দরকার ছিল ১৩ রান। হাতে দুই উইকেট। প্রথম দুই বলে ডট দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন সাব্বির হোসেন। তৃতীয় ডেলিভারিটি নো দিলে পরের দুই বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে সিলেটকে ম্যাচে ফেরান ইথান ব্রুকস। পঞ্চম বলে ইথান ব্রুকস (১৬) দৌড়ে রান নিতে গিয়ে জাকের আলীর সরাসরি থ্রোতে রানআউট হলে আবার ম্যাচ নোয়াখালীর দিকে হেলে পড়ে। ১ বলে তখন দরকার ২ রান। কিন্তু পরের ডেলিভারিটি ওয়াইড দিয়ে ম্যাচ হাত থেকে ফসকে যেতে দেন সাব্বির। ষষ্ঠ বৈধ ডেলিভারিতে লেগ বাই থেকে দৌড়ে রান নিয়ে শেষ হাসি হাসে সিলেট। 

৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন মেহেদী হাসান রানা। ১৯ রানে দুটি নেন হাসান মাহমুদ। একটি করে নিয়েছেন রেজাউর রহমান রাজা ও জহির খান।