আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। দেশজুড়ে থাকা সকল বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পুনরায় জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ভোটের আগে এগুলো আর মালিকদের ফেরত দেওয়া হবে না। তবে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব’ এবং ‘চূড়ান্ত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের’ জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের নতুন লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগের বিশেষ সুযোগ রেখে একটি নতুন নীতিমালা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত ১৪ ডিসেম্বর জারি করা এই নীতিমালার অধীনে ইতিমধ্যে অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে শুরু করেছেন। আবেদনকারীদের তালিকায় বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন। আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাঁরা এই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করছেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই এসব আবেদন গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে দেশে ১৭ হাজার ২০০টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বড় একটি অংশই দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক প্রভাবে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেই লাইসেন্সগুলো স্থগিত করে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও প্রায় ৩,৮৬০টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি, যা বর্তমানে অবৈধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নির্বাচনের আগে পুনরায় অস্ত্র জমা নেওয়ার এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো ভোটের সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধ এবং সহিংসতা কমিয়ে আনা।
রিপোর্টারের নাম 





















