ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট থাকলেও স্বস্তিতে শিল্পকারখানা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

এবারের শীত মৌসুমে দেশের কল-কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ গত বছরের তুলনায় সন্তোষজনক থাকলেও ঢাকার অনেক আবাসিক এলাকায় রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বনশ্রীসহ রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় দিনের বড় একটি অংশ জুড়ে গ্যাসের চাপ একদমই থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীদের মতে, সকাল ৭টার পরেই গ্যাসের চাপ কমে যায় এবং দুপুর ২টার আগে তা স্বাভাবিক হয় না, যার ফলে প্রাত্যহিক রান্নাবান্নার কাজে চরম বিঘ্ন ঘটছে। তবে ইস্কাটন বা পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। তীব্র শীতের প্রকোপ এখনো ঢাকায় সেভাবে অনুভূত না হলেও অনেক এলাকায় দিনের বেলা চুলা জ্বলছে না বললেই চলে।

আবাসিক গ্রাহকদের এই ভোগান্তির বিপরীতে শিল্প মালিকরা এবার বেশ স্বস্তিতে রয়েছেন। পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অনেক উন্নত। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, আগে যেখানে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোটায় নেমে আসত, এখন সেখানে পর্যাপ্ত চাপ বজায় থাকছে। অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সরকারের বিশেষ প্রচেষ্টাকেই শিল্পে এই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের কারণ হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎকেন্দ্রে শীতকালে চাহিদা কম থাকায় সার কারখানা চালু রেখেও শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত এক বছরে দেশীয় কূপগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ১৯০ কোটি থেকে কমে ১৬৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে এলএনজি আমদানি করছে। চলতি বছর মোট ১০৯ কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩ কার্গো আনা হয়েছে খোলা বাজার থেকে। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বাড়লেও নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের কাজ অব্যাহত রেখেছে বাপেক্স।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ ও শাহবাজ শরিফের বৈঠক: গুরুত্ব পেল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট থাকলেও স্বস্তিতে শিল্পকারখানা

আপডেট সময় : ১২:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

এবারের শীত মৌসুমে দেশের কল-কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ গত বছরের তুলনায় সন্তোষজনক থাকলেও ঢাকার অনেক আবাসিক এলাকায় রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বনশ্রীসহ রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় দিনের বড় একটি অংশ জুড়ে গ্যাসের চাপ একদমই থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীদের মতে, সকাল ৭টার পরেই গ্যাসের চাপ কমে যায় এবং দুপুর ২টার আগে তা স্বাভাবিক হয় না, যার ফলে প্রাত্যহিক রান্নাবান্নার কাজে চরম বিঘ্ন ঘটছে। তবে ইস্কাটন বা পুরান ঢাকার কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। তীব্র শীতের প্রকোপ এখনো ঢাকায় সেভাবে অনুভূত না হলেও অনেক এলাকায় দিনের বেলা চুলা জ্বলছে না বললেই চলে।

আবাসিক গ্রাহকদের এই ভোগান্তির বিপরীতে শিল্প মালিকরা এবার বেশ স্বস্তিতে রয়েছেন। পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অনেক উন্নত। বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, আগে যেখানে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোটায় নেমে আসত, এখন সেখানে পর্যাপ্ত চাপ বজায় থাকছে। অনেক শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সরকারের বিশেষ প্রচেষ্টাকেই শিল্পে এই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের কারণ হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎকেন্দ্রে শীতকালে চাহিদা কম থাকায় সার কারখানা চালু রেখেও শিল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত এক বছরে দেশীয় কূপগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ১৯০ কোটি থেকে কমে ১৬৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে এলএনজি আমদানি করছে। চলতি বছর মোট ১০৯ কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৩ কার্গো আনা হয়েছে খোলা বাজার থেকে। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বাড়লেও নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের কাজ অব্যাহত রেখেছে বাপেক্স।