মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘ ৪৭ বছরের বৈরিতা কাটিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি বসাতে পারা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এই বৈঠক থেকে চূড়ান্ত কোনো সমাধান আসেনি, তবে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভাঙার এই প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের মধ্যকার এই আলোচনায় কোনো বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলেও, নতুন করে সংঘাত শুরু না হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যে ভারত, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো অস্বস্তিতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তাদের আঞ্চলিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।
বিগত এক দশক ধরে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার যে চেষ্টা চালিয়েছিল, ইসলামাবাদের এই উদ্যোগের ফলে তা হোঁচট খেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যেখানে ভারত নিজেকে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে দাবি করে আসছিল, সেখানে পাকিস্তানের মাটিতে মার্কিন-ইরান সংলাপের আয়োজন ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে আগামী দিনে নতুন কোনো মোড় নিতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 





















