আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও ভোট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’-এর ওপর গণভোট আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে মূল বিষয়গুলোকে আইনি ভিত্তি দিতে এই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে একই দিনে দুটি বড় ভোট গ্রহণ নিয়ে বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো, যদি কোনো কারণে গণভোটে ‘না’ জয়ী হয়, তবে জুলাই অভ্যুত্থানের নৈতিক ও আইনি ভিত্তি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
গণভোটের প্রশ্ন ও জটিলতা: গণভোটে ভোটারদের একটি ব্যালট পেপারে চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে মাত্র একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে। প্রশ্নগুলো হলো:
- ক. জুলাই সনদের আলোকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন।
- খ. ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন (অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে)।
- গ. নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমাবদ্ধকরণসহ ৩০টি মৌলিক সংস্কার।
- ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রশ্নগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জটিল ও টেকনিক্যাল। কেউ যদি একটি পয়েন্টে একমত হয়ে অন্যটিতে দ্বিমত পোষণ করেন, তবে তাঁর আলাদাভাবে মতামত প্রকাশের সুযোগ নেই।
সময় ও ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ: ভোটের সময় নিয়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের জন্য ৮ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়, সেখানে গণভোটের বাড়তি চাপের জন্য ইসি মাত্র ১ ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রশ্ন পড়ে বুঝে ভোট দিতে ভোটারদের যে সময় লাগবে, তাতে ১০-১২ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন ছিল। এছাড়া সংসদ নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা-কালো এবং গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন, যা ভোটারদের জন্য কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও শঙ্কা: জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। বিএনপি ৯টি বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি দিলেও প্রকাশ্য গণভোটের বিরোধিতা করছে না। তবে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও কয়েকটি বাম দল পর্দার আড়াল থেকে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যদি অভ্যুত্থান বিরোধী এই বড় ভোট ব্যাংক এবং সনদে অসন্তুষ্ট দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘না’ ভোট দেয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এই সংকট কাটাতে সরকার গান ও ডেমো প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রচারণার ব্যাপক উদ্যোগ নিলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত।
রিপোর্টারের নাম 
























