ঢাকা ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নির্বাচনি অপরাধ দমনে ‘সুপার পাওয়ার’ নিয়ে মাঠে বিচারিক কমিটি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনি অপরাধ দমনে বিচারিক কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, এই বিচারিক কমিটি কেবল অপরাধের তদন্তই করবে না, বরং সংক্ষিপ্ত বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে। কমিটির অনুসন্ধানে কোনো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বা আসনের ফলাফল পর্যন্ত আটকে দিতে পারবে।

নির্বাচনি বিচারিক কমিটির ক্ষমতা ও কঠোর দণ্ড: অনিয়ম ঠেকাতে ইসির মারমুখী অবস্থান

অনিয়ম প্রমাণ হলে ফলাফল স্থগিতের ক্ষমতা; অপরাধভেদে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনি অপরাধ দমনে বিচারিক কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, এই বিচারিক কমিটি কেবল অপরাধের তদন্তই করবে না, বরং সংক্ষিপ্ত বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে। কমিটির অনুসন্ধানে কোনো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বা আসনের ফলাফল পর্যন্ত আটকে দিতে পারবে।

বিচারিক কমিটির বিশেষ ক্ষমতা:

  • সমন জারি ও সাক্ষ্য গ্রহণ: কমিটি যেকোনো ব্যক্তিকে তলব করতে পারবে এবং দেওয়ানি আদালতের ন্যায় শপথপূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় নথি দাখিলের নির্দেশ দিতে পারবে।
  • স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়ন: অনুসন্ধান বা বিচার কাজ পরিচালনার সুবিধার্থে তারা প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ দল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স তলব করতে পারবে।
  • তদন্ত ও সুপারিশ: আচরণবিধি লঙ্ঘন বা ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা তদন্ত করে সরাসরি ইসির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠাবে।

নির্বাচনি অপরাধ ও সাজার পরিমাণ:

অপরাধের ধরনসাজার পরিমাণ
গুরুতর অপরাধ: অবৈধ প্রভাব বিস্তার, ঘুষ আদান-প্রদান, প্রার্থীর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার, অতিরিক্ত ব্যয় ও ভোটারদের ত্রাস সৃষ্টি।২ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
ভোটের দিনের অপরাধ: কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রচারণা চালানো বা নির্দিষ্ট কাউকে ভোট দিতে প্ররোচিত করা।৬ মাস থেকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
আচরণবিধি লঙ্ঘন: দল বা প্রার্থীর নির্ধারিত নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করা।তদন্ত সাপেক্ষে জরিমানা বা প্রার্থিতা বাতিল।

ইসি সচিব জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তারিখ থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত এই বিচারিক কমিটিগুলো মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকবে। ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি এই বিচারিক কার্যক্রম একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

শিরোপা দৌড়ে আর্সেনালের বড় লাফ, ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে ম্যান সিটি

নির্বাচনি অপরাধ দমনে ‘সুপার পাওয়ার’ নিয়ে মাঠে বিচারিক কমিটি

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনি অপরাধ দমনে বিচারিক কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, এই বিচারিক কমিটি কেবল অপরাধের তদন্তই করবে না, বরং সংক্ষিপ্ত বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে। কমিটির অনুসন্ধানে কোনো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বা আসনের ফলাফল পর্যন্ত আটকে দিতে পারবে।

নির্বাচনি বিচারিক কমিটির ক্ষমতা ও কঠোর দণ্ড: অনিয়ম ঠেকাতে ইসির মারমুখী অবস্থান

অনিয়ম প্রমাণ হলে ফলাফল স্থগিতের ক্ষমতা; অপরাধভেদে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩০০ জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনি অপরাধ দমনে বিচারিক কর্মকর্তাদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, এই বিচারিক কমিটি কেবল অপরাধের তদন্তই করবে না, বরং সংক্ষিপ্ত বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ করতে পারবে। কমিটির অনুসন্ধানে কোনো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের বা আসনের ফলাফল পর্যন্ত আটকে দিতে পারবে।

বিচারিক কমিটির বিশেষ ক্ষমতা:

  • সমন জারি ও সাক্ষ্য গ্রহণ: কমিটি যেকোনো ব্যক্তিকে তলব করতে পারবে এবং দেওয়ানি আদালতের ন্যায় শপথপূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় নথি দাখিলের নির্দেশ দিতে পারবে।
  • স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়ন: অনুসন্ধান বা বিচার কাজ পরিচালনার সুবিধার্থে তারা প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ দল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স তলব করতে পারবে।
  • তদন্ত ও সুপারিশ: আচরণবিধি লঙ্ঘন বা ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা তদন্ত করে সরাসরি ইসির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠাবে।

নির্বাচনি অপরাধ ও সাজার পরিমাণ:

অপরাধের ধরনসাজার পরিমাণ
গুরুতর অপরাধ: অবৈধ প্রভাব বিস্তার, ঘুষ আদান-প্রদান, প্রার্থীর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার, অতিরিক্ত ব্যয় ও ভোটারদের ত্রাস সৃষ্টি।২ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
ভোটের দিনের অপরাধ: কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রচারণা চালানো বা নির্দিষ্ট কাউকে ভোট দিতে প্ররোচিত করা।৬ মাস থেকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।
আচরণবিধি লঙ্ঘন: দল বা প্রার্থীর নির্ধারিত নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করা।তদন্ত সাপেক্ষে জরিমানা বা প্রার্থিতা বাতিল।

ইসি সচিব জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তারিখ থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত এই বিচারিক কমিটিগুলো মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকবে। ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি এই বিচারিক কার্যক্রম একটি শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।