ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাবিতে শেখ পরিবারের নামে ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের মূল ফটক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ডাকসুর নেতাকর্মীরা উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম জানান, সংশ্লিষ্ট পাঁচটি স্থাপনার মধ্যে দুটি হল, একটি হোস্টেল এবং দুটি স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে। স্থাপনাগুলো হলো- শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও সুলতানা কামাল হোস্টেল।

তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এর আগে ডাকসুর পক্ষ থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘ফেলানী খাতুন হল’ করার প্রস্তাব দিলে সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীরা তাতে দ্বিমত পোষণ করেন।

একইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা। বিক্ষোভে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত বলেন, আমার হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষা আজ এখানে তুলে ধরছি। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের ইতিহাস দীর্ঘদিন পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার নামে আমাদের হলের নামকরণ করার ম্যান্ডেট পেয়েছি। আমাদের হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগমের নামে হলের নাম পরিবর্তনের পক্ষে।

ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেন, আমরা আজ দুটি দাবি নিয়ে এখানে এসেছি। প্রথমত, ফ্যাসিবাদের আইকনদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা সব স্থাপনার নাম অবিলম্বে পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছি। শেখ মুজিব হলের নাম শহীদ ওসমান হাদি হল এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল করার দাবি জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম পরিবর্তনের দাবিও প্রশাসনের কাছে জানানো হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও রেজিস্ট্রার ভবনে বসে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আর কোনও ছাড় দেবো না।’

বিক্ষোভ শেষে ডাকসুর নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাইমা হক বিদিশার কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যসচিব সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ওরা দাবি করেছে আজ, এর আগেও দাবি করেছিল তখন অন্য নাম চেয়েছিল, এখন অন্য নাম চাইছে। এখন এটা সিন্ডিকেটে যাবে, সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেবে।

হলের নাম সাধারণত পরিবর্তন করা যায় কিনা জানতে চাইলে সাইফুদ্দীন আহমেদ শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হল এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের নাম পরিবর্তিত হওয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই যায়। যাবে না কেন?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

ঢাবিতে শেখ পরিবারের নামে ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:২৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে নামকরণ করা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের মূল ফটক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ডাকসুর নেতাকর্মীরা উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম জানান, সংশ্লিষ্ট পাঁচটি স্থাপনার মধ্যে দুটি হল, একটি হোস্টেল এবং দুটি স্টাফ কোয়ার্টার রয়েছে। স্থাপনাগুলো হলো- শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও সুলতানা কামাল হোস্টেল।

তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে এর আগে ডাকসুর পক্ষ থেকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘ফেলানী খাতুন হল’ করার প্রস্তাব দিলে সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীরা তাতে দ্বিমত পোষণ করেন।

একইসঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা। বিক্ষোভে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত বলেন, আমার হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আকাঙ্ক্ষা আজ এখানে তুলে ধরছি। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুত্থানের ইতিহাস দীর্ঘদিন পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার নামে আমাদের হলের নামকরণ করার ম্যান্ডেট পেয়েছি। আমাদের হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগমের নামে হলের নাম পরিবর্তনের পক্ষে।

ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেন, আমরা আজ দুটি দাবি নিয়ে এখানে এসেছি। প্রথমত, ফ্যাসিবাদের আইকনদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা সব স্থাপনার নাম অবিলম্বে পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করেছি। শেখ মুজিব হলের নাম শহীদ ওসমান হাদি হল এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম বীরপ্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হল করার দাবি জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও সুলতানা কামাল হোস্টেলের নাম পরিবর্তনের দাবিও প্রশাসনের কাছে জানানো হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও রেজিস্ট্রার ভবনে বসে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আর কোনও ছাড় দেবো না।’

বিক্ষোভ শেষে ডাকসুর নেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাইমা হক বিদিশার কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।

হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যসচিব সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ওরা দাবি করেছে আজ, এর আগেও দাবি করেছিল তখন অন্য নাম চেয়েছিল, এখন অন্য নাম চাইছে। এখন এটা সিন্ডিকেটে যাবে, সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেবে।

হলের নাম সাধারণত পরিবর্তন করা যায় কিনা জানতে চাইলে সাইফুদ্দীন আহমেদ শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হল এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের নাম পরিবর্তিত হওয়ার উদাহরণ টেনে বলেন, হ্যাঁ অবশ্যই যায়। যাবে না কেন?