ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতে পালাতে সাহায্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সিভিয়ন দিউ ও সঞ্চয় সিচিম। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিঝিল থানার পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আজ তাদের আদালতে হাজির করে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আগের শুনানির সময় হাদি চিকিৎসাধীন ছিলেন, কিন্তু আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। গতকাল সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ চোখের জলে তাকে বিদায় জানিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে, সীমান্ত পারাপারকারী চক্রের মূল হোতা ফিলিপের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের পুনরায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।’
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ফয়সালকে সীমান্ত পার করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ফিলিপ’ নামের একজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার অবস্থান শনাক্ত করা, হাদি হত্যার মিশনে আর কারা জড়িত এবং কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানতে আসামিদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে গত ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন, যা হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















