ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না: ইসি সানাউল্লাহ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এ ধরনের কোনও কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে— এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করতে। প্রয়োজনে বাধা দিতে, যা করা প্রয়োজন তা তারা করবেন।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম ও আচরণবিধি প্রতিপালনসহ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এই বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। দুপুর আড়াইটার পর নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর আগে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বেলা ১২টায় বৈঠক করে ইসি।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এক হামলায় আমাদের জুলাইযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সাত-আট দিন পুরো জাতির সঙ্গে আমরা শোকে মুহ্যমান ছিলাম এবং আমাদের ফোকাসটা ওদিকেই ছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান আছে। 

তিনি বলেন, যে ঘটনাগুলো তার মধ্যে ঘটছে, সেগুলোর স্বরূপ সম্বন্ধে আমরা জানতে চেয়েছি। এগুলোর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা এবং নির্বাচনি পরিবেশের ওপরে কোনও প্রভাব ফেলছে কিনা, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা আজকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দিয়েছি।

ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, সার্বিকভাবে যদি আমরা বলি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আছে।

শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ভোটের মাঠের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ডেফিনেটলি এটা একটা বড় ঘটনা। মাঠ পর্যায়ে এটা তো সার্বিকভাবে একটা প্রভাব ফেলেছে। যারা নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে চায়, আন্ডারমাইন করতে চায়, তাদের টার্গেট কিন্তু মূলত শহর এলাকা। খেয়াল করে দেখবেন এবং তারা খুব খুব অর্গানাইজভাবে টার্গেটেড কর্মকাণ্ড করছে, যাতে করে এটার প্রভাব এত বেশি হয় যেন জনগণের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। আমরা এগুলো সবই চিহ্নিত করেছি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এমন বিষয়কে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কমিশন। তারা (যৌথ বাহিনী) অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক শুরু করবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা দস্যুতা করতে চায়, যারা আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়, যারা ভোটে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হবো না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা আবেগ ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে, তার প্রতিদান তারা পাবেন।

তফসিল ঘোষণার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে কিনা এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার পরে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এগুলো আমাদেরও কনসার্ন আপনারা যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন, এগুলো নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন।  কারণ এটার সঙ্গে ডেফিনেটলি নির্বাচনের পরিবেশের সম্পৃক্ততা আছে। কারণ তফসিল ঘোষণার পরে যাই হোক না কেন, সাধারণ আইনশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেও সেটার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব তো নির্বাচনের ওপর পড়ে, পরিবেশের ওপরে পড়ে। অন্ততপক্ষে আপনারাও (গণমাধ্যম) তো একটা বড় অংশ আমাদের অংশীজন এবং আমাদের পার্টনার। আপনারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, কিভাবে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। সুতরাং এই বিষয়গুলো আমরা জানতে চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেটা অবহিত হয়েছি একটা জাতীয় শোকের সময় যখন সবাই আমরা শোকে মুহ্যমান এবং সেখানে স্বাভাবিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশের জন্য মানুষজন জড় হয়েছে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। এইটাকে ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী কিছু লোক এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে ওভারপাওয়ার করে। এই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। মেসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার।

ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে হামলা ও আগুনের ঘটনায় ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এই ব্যাপারটা আমরা ইনডাইরেক্ট আলোচনায় এসছি। কারণ এটা একটা ভ্যান্ডালিজম। এবং এটাও আমাদের নির্বাচনি পরিবেশের ওপরে প্রভাব ফেলছে। ঘটনাটা কিন্তু নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরিভাবে রিলেটেড না। তদপুরি আমরা ডিসকাশনে নিয়ে এসেছি। কারণ এটার সঙ্গে আমাদের স্বার্থ জড়িত আছে। সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি এটার সঙ্গে রিলেটেড।

 

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেট সময় : ০৯:৩০:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে এ ধরনের কোনও কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে— এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করতে। প্রয়োজনে বাধা দিতে, যা করা প্রয়োজন তা তারা করবেন।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম ও আচরণবিধি প্রতিপালনসহ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এই বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। দুপুর আড়াইটার পর নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর আগে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বেলা ১২টায় বৈঠক করে ইসি।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এক হামলায় আমাদের জুলাইযোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সাত-আট দিন পুরো জাতির সঙ্গে আমরা শোকে মুহ্যমান ছিলাম এবং আমাদের ফোকাসটা ওদিকেই ছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান আছে। 

তিনি বলেন, যে ঘটনাগুলো তার মধ্যে ঘটছে, সেগুলোর স্বরূপ সম্বন্ধে আমরা জানতে চেয়েছি। এগুলোর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা এবং নির্বাচনি পরিবেশের ওপরে কোনও প্রভাব ফেলছে কিনা, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা আজকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দিয়েছি।

ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, সার্বিকভাবে যদি আমরা বলি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে আছে।

শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড ভোটের মাঠের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে স্বীকার করে তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ডেফিনেটলি এটা একটা বড় ঘটনা। মাঠ পর্যায়ে এটা তো সার্বিকভাবে একটা প্রভাব ফেলেছে। যারা নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে চায়, আন্ডারমাইন করতে চায়, তাদের টার্গেট কিন্তু মূলত শহর এলাকা। খেয়াল করে দেখবেন এবং তারা খুব খুব অর্গানাইজভাবে টার্গেটেড কর্মকাণ্ড করছে, যাতে করে এটার প্রভাব এত বেশি হয় যেন জনগণের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। আমরা এগুলো সবই চিহ্নিত করেছি।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এমন বিষয়কে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কমিশন। তারা (যৌথ বাহিনী) অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, আটক শুরু করবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা দস্যুতা করতে চায়, যারা আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়, যারা ভোটে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হবো না। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে। যারা আবেগ ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে, তার প্রতিদান তারা পাবেন।

তফসিল ঘোষণার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে কিনা এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার পরে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এগুলো আমাদেরও কনসার্ন আপনারা যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন, এগুলো নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন।  কারণ এটার সঙ্গে ডেফিনেটলি নির্বাচনের পরিবেশের সম্পৃক্ততা আছে। কারণ তফসিল ঘোষণার পরে যাই হোক না কেন, সাধারণ আইনশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেও সেটার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব তো নির্বাচনের ওপর পড়ে, পরিবেশের ওপরে পড়ে। অন্ততপক্ষে আপনারাও (গণমাধ্যম) তো একটা বড় অংশ আমাদের অংশীজন এবং আমাদের পার্টনার। আপনারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, কিভাবে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। সুতরাং এই বিষয়গুলো আমরা জানতে চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেটা অবহিত হয়েছি একটা জাতীয় শোকের সময় যখন সবাই আমরা শোকে মুহ্যমান এবং সেখানে স্বাভাবিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশের জন্য মানুষজন জড় হয়েছে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। এইটাকে ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী কিছু লোক এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে ওভারপাওয়ার করে। এই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। মেসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার।

ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে হামলা ও আগুনের ঘটনায় ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এই ব্যাপারটা আমরা ইনডাইরেক্ট আলোচনায় এসছি। কারণ এটা একটা ভ্যান্ডালিজম। এবং এটাও আমাদের নির্বাচনি পরিবেশের ওপরে প্রভাব ফেলছে। ঘটনাটা কিন্তু নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরিভাবে রিলেটেড না। তদপুরি আমরা ডিসকাশনে নিয়ে এসেছি। কারণ এটার সঙ্গে আমাদের স্বার্থ জড়িত আছে। সার্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি এটার সঙ্গে রিলেটেড।