আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই বা সহিংসতার মতো যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য, ছবি এবং ভিডিও সরাসরি কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে যাবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সবাই এই প্রযুক্তির আওতায় থাকবেন। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনেও এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে এবং বর্তমানে অ্যাপটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার চেষ্টার মতো ঘটনার প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা অ্যাপের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ ভিডিও বা ভয়েস রেকর্ড পাঠাতে পারবেন, যা সরাসরি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির মনিটরিং সেলে প্রদর্শিত হবে। যদি স্থানীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং প্রয়োজনে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিক স্থগিত করার ক্ষমতা রাখবে ইসি।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ২০ জানুয়ারি প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর ২১ জানুয়ারি থেকে প্রচার শুরু হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সারা দেশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে আচরণবিধির কঠোর প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। ভোটগ্রহণের দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ মোতায়েন নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি ৮২ সদস্যের কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন প্রক্রিয়াধীন আছে। ডিজিটাল এই মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়াই ইসির প্রধান লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 






















