সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাস ও সহিংসতা উসকে দেয় এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি এবং বিটিআরসি।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, সরাসরি সহিংসতা উসকে দেয় এমন বক্তব্য জাতীয় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। নাগরিকরা যেন এ ধরনের পোস্ট সম্পর্কে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০১৩০৮৩৩২৫৯২) এবং একটি ইমেইল (notify@ncsa.gov.bd) চালু করা হয়েছে।
সরকার মনে করছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। মেটার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে থাকা বাংলাদেশে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের উসকানি দেওয়া হচ্ছে।
গত শুক্রবার পাঠানো ওই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব উসকানিমূলক পোস্টের বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় রিপোর্ট করার পরও মেটা তাদের ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করেনি, যা সহিংসতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
বিটিআরসি এর আগে একাধিকবার বিগত সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও পেজ নিষ্ক্রিয় করার অনুরোধ জানালেও মেটা তা পালন না করায় চিঠিতে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি পক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। সরকার যেহেতু সরাসরি কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পারে না, তাই নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিটিআরসির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে রিপোর্ট করা হবে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 























