ওসমান হাদী শহীদ হওয়ার খবরে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছে সাধারণ ছাত্র-জনতা। তবে এই ন্যায়সংগত আন্দোলনকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা ও নাশকতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই গণমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ ও ‘ডেইলী স্টার’-এর অফিসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—জুলাই বিপ্লবের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য কি তবে এই ধ্বংসযজ্ঞ?
গণমাধ্যমের ওপর হামলা কেন?
ওসমান হাদীর মৃত্যুর বিচার চাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। কিন্তু সেই ক্ষোভকে পুঁজি করে গণমাধ্যমের কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া বা ভাঙচুর করা কি জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক নয়? জুলাই বিপ্লব ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এবং বাক-স্বাধীনতার পক্ষে। আজ যখন সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা হয়, তখন তা আন্দোলনের মূল স্পিরিট বা চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। গণমাধ্যম যদি কোনো ভুল করে থাকে, তবে তার প্রতিবাদ জানানোর সভ্য ও আইনি ভাষা রয়েছে। অগ্নিসংযোগ বা মব ভায়োলেন্স কখনোই সমাধান হতে পারে না।
সারজিস আলমের সতর্কবার্তা ও কর্মসূচি পরিবর্তন
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও নেতা সারজিস আলম কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই-বিরোধী শক্তিগুলো সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে ব্যবহার করে নাশকতা ও ভাঙচুর চালানোর পরিকল্পনা করছে।
আজ (শুক্রবার) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এক বার্তায় তিনি বলেন, “আজ জুম্মার নামাজের পর যেকোনো কর্মসূচীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। গতকালের মত ভাঙচুর ও নাশকতা করার পরিকল্পনা রয়েছে জুলাই বিরোধী শক্তিগুলোর। আমরা যেকোনো প্রকার ভায়োলেন্স ও নাশকতার বিরুদ্ধে।”
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি আজকের শাহবাগের পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছেন। এর পরিবর্তে তিনি জানান, “বিকাল ৪টায় বাংলামোটর থেকে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজিত হবে। সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।”
মব ভায়োলেন্সের বিপক্ষে এনসিপি ও জনগন
জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতাসহ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই মব ভায়োলেন্স বা মব জাস্টিস সমর্থন করেন না। জনগণের আবেগকে ব্যবহার করে কোনো হঠকারী গোষ্ঠী যাতে ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়া, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বিচারের নামে যদি অরাজকতা, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলে, তবে তা শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
জনগণের প্রত্যাশা ওসমান হাদী হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কোনো কাজ না করেন যা আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। রাষ্ট্র সংস্কারের এই যাত্রায় ‘মব রুল’ বা উচ্ছৃঙ্খল জনতা নয়, বরং আইনের শাসনই কাম্য।
রিপোর্টারের নাম 




















