তেত্রিশ বছর বয়সী শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন এক আপসহীন কণ্ঠস্বর ও ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল এক ব্যক্তিত্ব, যিনি মানুষের আশা ও বিশ্বাসের প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজয়নগরের কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্র। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৮ ডিসেম্বর তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। আজ সন্ধ্যায় এই অকুতোভয় সৈনিকের মরদেহ দেশে ফেরার কথা রয়েছে, যিনি জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে বুকে নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে ফিরছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আজ বিকেলে তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছাবে। তার প্রথম জানাজা সিঙ্গাপুরের ‘দ্য আঙ্গুলিয়া’ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশে তার জানাজা শনিবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সম্পন্ন হবে। শরিফ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এমনকি আগামী শনিবার হাদির স্মরণে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোকও ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেওয়া হাদি ছিলেন জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের পরিচিত মুখ। রামপুরা, মালিবাগ ও বিজয়নগরের উত্তপ্ত রাজপথে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঘরে রেখে ন্যায়ের দাবিতে অটল থাকা এই তরুণ ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র থাকাকালীন মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে বারবার রাজনৈতিক হয়রানি ও তকমার শিকার হওয়া হাদির মাঝে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস তৈরি হয়েছিল শৈশব থেকেই। মাত্র কয়েক বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ঘাতকের বুলেটে প্রাণ হারানো হাদির এই আত্মত্যাগ আজ কোটি মানুষের হৃদয়ে সাহসের নতুন গল্প হিসেবে বেঁচে থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 



















