ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বিপন্ন সুতাং নদী: প্রতিটি মাছে মিলছে গড়ে ১.৭টি মাইক্রোপ্লাস্টিক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানি ও মাছের দেহে আশঙ্কাজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নদীটির জলজ পরিবেশ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘শিল্পদূষণ ও মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বিষয়ক এক সেমিনারে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

গবেষক দল নদী থেকে সংগৃহীত ৩০টি মাছের পরিপাকতন্ত্র বিশ্লেষণ করে মোট ৫১টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ৭টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। 

গবেষণায় দেখা যায়, বড়ো আকারের মাছগুলো দীর্ঘ সময় দূষিত পরিবেশে বসবাসের কারণে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সুতাং নদীর প্রতি লিটার পানিতে ৬ দশমিক ৬৭ থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ দশমিক ৬টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এসব কণার মধ্যে প্লাস্টিক খণ্ডাংশ ও ফাইবারের আধিক্য বেশি, যার গড় আকার ০ দশমিক ১ থেকে ০ দশমিক ৫ মিলিমিটার।

ল্যাবে রাসায়নিক বিশ্লেষণে পলিথিন (পিই), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ও পলিআমাইডের মতো ক্ষতিকর প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, যা মূলত প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও বস্ত্রশিল্প থেকে আসে।

গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, নদী ও জলজ পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ভবিষ্যতে মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সেমিনারে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ বলেন, “সুতাং নদীর পানি ও মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই গবেষণা পরিবেশ সুরক্ষা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, “শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে হবিগঞ্জের নদ-নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

গবেষক মো. শাকির আহম্মদ বলেন, “মিঠাপানির এই দূষণ দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে উঠতে পারে। নিয়মিত গবেষণা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধ ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

বিপন্ন সুতাং নদী: প্রতিটি মাছে মিলছে গড়ে ১.৭টি মাইক্রোপ্লাস্টিক

আপডেট সময় : ১১:০৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানি ও মাছের দেহে আশঙ্কাজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নদীটির জলজ পরিবেশ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘শিল্পদূষণ ও মাইক্রোপ্লাস্টিক’ বিষয়ক এক সেমিনারে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

গবেষক দল নদী থেকে সংগৃহীত ৩০টি মাছের পরিপাকতন্ত্র বিশ্লেষণ করে মোট ৫১টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ৭টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। 

গবেষণায় দেখা যায়, বড়ো আকারের মাছগুলো দীর্ঘ সময় দূষিত পরিবেশে বসবাসের কারণে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সুতাং নদীর প্রতি লিটার পানিতে ৬ দশমিক ৬৭ থেকে সর্বোচ্চ ৪৬ দশমিক ৬টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এসব কণার মধ্যে প্লাস্টিক খণ্ডাংশ ও ফাইবারের আধিক্য বেশি, যার গড় আকার ০ দশমিক ১ থেকে ০ দশমিক ৫ মিলিমিটার।

ল্যাবে রাসায়নিক বিশ্লেষণে পলিথিন (পিই), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ও পলিআমাইডের মতো ক্ষতিকর প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, যা মূলত প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও বস্ত্রশিল্প থেকে আসে।

গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, নদী ও জলজ পরিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ভবিষ্যতে মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সেমিনারে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ বলেন, “সুতাং নদীর পানি ও মাছের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই গবেষণা পরিবেশ সুরক্ষা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সদস্য সচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, “শিল্পবর্জ্য ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে হবিগঞ্জের নদ-নদী মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।”

গবেষক মো. শাকির আহম্মদ বলেন, “মিঠাপানির এই দূষণ দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে উঠতে পারে। নিয়মিত গবেষণা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।”