ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

জামিন নিয়ে আইন উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি সুপ্রিম কোর্ট বারের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা এক আসামির অন্য মামলায় জামিন হওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে সমতিরি সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এ দাবি জানান।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা এক আসামির অন্য মামলায় জামিন হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রধান বিচারপতি ও আইনজীবীদের সমালোচনা করেছেন। এগুলো খুবই দুঃখজনক। বিচারপতি ও আইনজীবীরা জানেন না তাদের জামিন দিলে তারা অপরাধ করবেন। তারা কেউ দার্শিনিক নন। আমরা দুটি বিষয় মনে করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামিন নিয়ে এসব বক্তব্য রাখা বা মন্তব্য করা বিচারপতি ও আইনজীবীদের প্রতি নির্দয় আচরণ করা। আইনজীবীদের কাজ মামলা করা, আদালতকে সহযোগিতা করা। আদালত ডকুমেন্ট দেখে বিচার করেন, তাদের ডকুমেন্টের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এভাবে সমালোচনা করলে যেকোনও ব্যক্তি আইনজীবীরা অসহায়ত্ববোধ করবেন, বিব্রতবোধ করবেন, যা ন্যায়বিচার পরিপন্থি হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন সুপ্রিম কোর্টে স্বাধীন সচিবালয় হয়েছে, তারা স্বাধীন হয়েছে। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। দুঃখজনক হলো আমাদের আইন উপদেষ্টা উনি খুব ভালো মানুষ, পন্ডিত মানুষ। কিন্তু উনি ফেসবুকে এ নিয়ে (হাদির হত্যাচেষ্টার আসামির জামিন নিয়ে) স্ট্যাটাস দিয়েছে। উনি সরকারি দায়িত্বে আছেন। তাই উনি যদি এভাবে আইনজীবী ও বিচারপতিদের নিয়ে সমালোচনা করেন তাহলে সেটি আমরা বা দেশবাসী আশা করি না। তাই তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়।

এখন সুপ্রিম কোর্টকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে ছেড়ে দিতে হবে। কেউ যদি পক্ষপাতিত্ব দেখায়, অসৎ বা দূর্নীতি করে সেটিতে হস্তক্ষেপ করতে হবে। কিন্তু স্বাধীন বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করা যাবেনা। কেউ যদি হাইকোর্টের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয় তাহলে তাকে আপিল বিভাগে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এ সময় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনসহ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধ ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

জামিন নিয়ে আইন উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি সুপ্রিম কোর্ট বারের

আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা এক আসামির অন্য মামলায় জামিন হওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে সমতিরি সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এ দাবি জানান।

ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা এক আসামির অন্য মামলায় জামিন হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রধান বিচারপতি ও আইনজীবীদের সমালোচনা করেছেন। এগুলো খুবই দুঃখজনক। বিচারপতি ও আইনজীবীরা জানেন না তাদের জামিন দিলে তারা অপরাধ করবেন। তারা কেউ দার্শিনিক নন। আমরা দুটি বিষয় মনে করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামিন নিয়ে এসব বক্তব্য রাখা বা মন্তব্য করা বিচারপতি ও আইনজীবীদের প্রতি নির্দয় আচরণ করা। আইনজীবীদের কাজ মামলা করা, আদালতকে সহযোগিতা করা। আদালত ডকুমেন্ট দেখে বিচার করেন, তাদের ডকুমেন্টের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এভাবে সমালোচনা করলে যেকোনও ব্যক্তি আইনজীবীরা অসহায়ত্ববোধ করবেন, বিব্রতবোধ করবেন, যা ন্যায়বিচার পরিপন্থি হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন সুপ্রিম কোর্টে স্বাধীন সচিবালয় হয়েছে, তারা স্বাধীন হয়েছে। এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। দুঃখজনক হলো আমাদের আইন উপদেষ্টা উনি খুব ভালো মানুষ, পন্ডিত মানুষ। কিন্তু উনি ফেসবুকে এ নিয়ে (হাদির হত্যাচেষ্টার আসামির জামিন নিয়ে) স্ট্যাটাস দিয়েছে। উনি সরকারি দায়িত্বে আছেন। তাই উনি যদি এভাবে আইনজীবী ও বিচারপতিদের নিয়ে সমালোচনা করেন তাহলে সেটি আমরা বা দেশবাসী আশা করি না। তাই তার বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়।

এখন সুপ্রিম কোর্টকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে ছেড়ে দিতে হবে। কেউ যদি পক্ষপাতিত্ব দেখায়, অসৎ বা দূর্নীতি করে সেটিতে হস্তক্ষেপ করতে হবে। কিন্তু স্বাধীন বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করা যাবেনা। কেউ যদি হাইকোর্টের আদেশে সংক্ষুব্ধ হয় তাহলে তাকে আপিল বিভাগে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এ সময় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলনসহ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।