এক অভূতপূর্ব নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। আজ ভোরে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার) তারা শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে শক্তিশালী ফ্রান্সকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এই আফ্রিকান দেশটির জন্য ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে, আর সেখানেই আসল চমক দেখান মরক্কোর তৃতীয় গোলরক্ষক আবদেলহাকিম এল মেসবাহি। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁকে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়েছিল, এবং তাঁর সেই মহামূল্যবান সেভই মরক্কোর জন্য জয় ছিনিয়ে আনে।
মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি যেন এক দারুণ কৌশল সাজিয়ে রেখেছিলেন। জানা যায়, এল মেসবাহির পানির বোতলে ফ্রান্সের পেনাল্টি শুটারদের ছবি এবং তাঁরা কোন দিকে শট নিতে পারেন, সেই সংক্রান্ত নির্দেশনা ছাপানো ছিল! আর সেই কৌশলই পুরোপুরি কাজে লেগে যায়। এল মেসবাহি ফ্রান্সের শেষ শটটি রুখে দেন জাইলিয়ান এনগুয়েসানের কাছ থেকে, যা পুরো মরক্কো দলকে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর সুযোগ করে দেয়।
এর আগে খেলার ৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের গোলরক্ষক লিসান্দ্রু ওলমেতার আত্মঘাতী গোলে অপ্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে যায় মরক্কো। তবে ৫৯তম মিনিটে লুকাস মিশেল গোল করে সমতা ফিরিয়ে আনেন। এরপর নির্ধারিত বা অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই আর গোল করতে পারেনি।
আসলে, মরক্কোর মূল গোলরক্ষক ইয়ানিস বেঞ্চাউচ ইনজুরিতে পড়লে ৬৪ মিনিটে ইব্রাহিম গোমিসকে নামানো হয়। আর খেলার শেষ মুহূর্তে, একেবারে অতিরিক্ত সময়ের শেষে, নায়ক হয়ে ওঠা এল মেসবাহির জন্য জায়গা তৈরি করা হয়।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই মরক্কো দুর্দান্ত খেলা দেখিয়েছে। গ্রুপ পর্বে তারা স্পেন এবং ব্রাজিলের মতো কঠিন দলকে হারিয়ে শীর্ষে ছিল। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকেও পরাজিত করে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল।
২০০৫ সালে চতুর্থ হয়ে থেমে গিয়েছিল যে মরক্কো, তারা এবার পৌঁছে গেল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। আগামী রোববার, ১৯ অক্টোবর, ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে আর্জেন্টিনা।
রিপোর্টারের নাম 























