ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে অস্থিতিশীল ও অগণতান্ত্রিক সরকার চায় ভারত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে প্রকাশ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও বাস্তবে ভারত একটি অস্থিতিশীল ও অগণতান্ত্রিক বাংলাদেশই চায়, এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারতের অবস্থান বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জাহেদ উর রহমান তার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভারতের ভূমিকা এখন আর অস্পষ্ট নয়। তার মতে, মুখে অবাধ নির্বাচনের কথা বললেও ভারতের প্রকৃত চাওয়া হলো এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল থাকবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত নিজেদের আঞ্চলিক ও কৌশলগত স্বার্থ সহজে বাস্তবায়ন করতে পারে।

তিনি সম্প্রতি ভারতের দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশ সরকার যখন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী তৎপরতায় প্ররোচনা এবং নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তোলে, তখন ভারতের প্রতিক্রিয়াই তাদের আসল অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকের ভাষায়, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার নিয়মিত বক্তব্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এসব বক্তব্য গোপন কোনো তথ্য নয়; বরং প্রকাশ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলীয় প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হচ্ছে। তবু ভারত এসব কার্যক্রম অস্বীকার করছে, যা দ্বিমুখী নীতিরই প্রমাণ। জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের এই কৌশল নতুন নয়। নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেসব দেশ গণতান্ত্রিকভাবে শক্ত অবস্থান নেয় এবং ভারতের আধিপত্য মানতে চায় না, সেসব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

তার মতে, বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ও জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার আসে, তবে ভারতের একতরফা প্রভাব বিস্তার সম্ভব হবে না। এই কারণেই ভারত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পছন্দ করে না। বরং এমন নেতৃত্বকে সমর্থন দেওয়া হয়, যারা গণতান্ত্রিক জবাবদিহির বাইরে থেকে ক্ষমতায় থাকতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, অভ্যন্তরীণ সংঘাত উসকে দেওয়া কিংবা বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতা বাড়তে পারে। তাই রাষ্ট্র ও জনগণকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যদি কৌশলগতভাবে দৃঢ় অবস্থানে থাকতে পারে এবং জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তবে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে ভারতকেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে বাধ্য হতে হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে বিশেষ ঋণসুবিধা: ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আনার সুযোগ

বাংলাদেশে অস্থিতিশীল ও অগণতান্ত্রিক সরকার চায় ভারত

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে প্রকাশ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও বাস্তবে ভারত একটি অস্থিতিশীল ও অগণতান্ত্রিক বাংলাদেশই চায়, এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. জাহেদ উর রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারতের অবস্থান বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) জাহেদ উর রহমান তার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভারতের ভূমিকা এখন আর অস্পষ্ট নয়। তার মতে, মুখে অবাধ নির্বাচনের কথা বললেও ভারতের প্রকৃত চাওয়া হলো এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল থাকবে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত নিজেদের আঞ্চলিক ও কৌশলগত স্বার্থ সহজে বাস্তবায়ন করতে পারে।

তিনি সম্প্রতি ভারতের দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বাংলাদেশ সরকার যখন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী তৎপরতায় প্ররোচনা এবং নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তোলে, তখন ভারতের প্রতিক্রিয়াই তাদের আসল অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকের ভাষায়, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার নিয়মিত বক্তব্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এসব বক্তব্য গোপন কোনো তথ্য নয়; বরং প্রকাশ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলীয় প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হচ্ছে। তবু ভারত এসব কার্যক্রম অস্বীকার করছে, যা দ্বিমুখী নীতিরই প্রমাণ। জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের এই কৌশল নতুন নয়। নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেসব দেশ গণতান্ত্রিকভাবে শক্ত অবস্থান নেয় এবং ভারতের আধিপত্য মানতে চায় না, সেসব দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

তার মতে, বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ও জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার আসে, তবে ভারতের একতরফা প্রভাব বিস্তার সম্ভব হবে না। এই কারণেই ভারত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পছন্দ করে না। বরং এমন নেতৃত্বকে সমর্থন দেওয়া হয়, যারা গণতান্ত্রিক জবাবদিহির বাইরে থেকে ক্ষমতায় থাকতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, অভ্যন্তরীণ সংঘাত উসকে দেওয়া কিংবা বিভ্রান্তিমূলক তৎপরতা বাড়তে পারে। তাই রাষ্ট্র ও জনগণকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ যদি কৌশলগতভাবে দৃঢ় অবস্থানে থাকতে পারে এবং জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তবে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে ভারতকেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে বাধ্য হতে হবে।