ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ৫৫ ঘণ্টা: ধরা-ছোঁয়ার বাইরে হামলাকারীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণের ঘটনার ৫৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি মূল হামলাকারীরা। পুলিশ বলছে, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং হামলাকারীরা দেশেই রয়েছে। তবে এত কিছুর পরও তারা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আবদুল হান্নানকে গ্রেফতার করে মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারের অভিযোগে আটক আরও দুজনকে এই হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না— তা যাচাইয়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর)

সর্বশেষ রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা হলেন— ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ। এর মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি চালিয়েছে এবং আলমগীর শেখ মোটরসাইকেল চালকের আসনে ছিল বলে জানান তিনি।

চিহ্নিত এই দুজনকে গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার কোনও তথ্য নেই। তবে তারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বিজিবিসহ দেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এই ঘোষণা দেন। 

তিনি জানান, দেশের সীমান্ত দিয়ে মানুষ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিষয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শীর্ষ জুলাই যোদ্ধাদের অনেকের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাজার হাজার জুলাই যোদ্ধার নিরাপত্তা ব্যক্তি পর্যায়ে নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। তবে হাদির মতো যারা সরাসরি হুমকির মুখে বা গান পয়েন্টে রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।

অন্যদিকে র‌্যাব জানিয়েছে, ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টা ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফয়সালের সই করা বিপুল পরিমাণ চেকবই এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‍্যাব।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর)

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চিহ্নিত হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তার এই বক্তব্যের পর আরও ২৪ ঘণ্টা পার হলেও রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত মূল হামলাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ সময় পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও মামলাও হয়নি।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলায় মোটরসাইকেল চালক ও তার পেছনে বসে গুলি করা ব্যক্তিকে আসামি করা হবে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

হামলাকারীর পরিচয় ও অপরাধের তথ্য

পুলিশ শনিবারই ওসমান হাদির ওপর গুলি করা যুবকের নাম–পরিচয় প্রকাশ করে। তার নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। বাবার নাম হুমায়ুন কবির। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। পুলিশের পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ঢাকার আদাবর থানার পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন।

তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য ছিলেন।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটিতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিও ছিলেন তিনি। ওই মামলায় ৭ নভেম্বর র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি মোবাইল ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে অস্ত্র আইনের মামলায় তিন মাস পর তিনি জামিন পান, যা পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হয়। জামিনে বেরিয়ে তিনি পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওসমান হাদির নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

১২ ডিসেম্বর— হামলার দিন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসন্ন সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর পল্টন বক্স কালভার্ট রোড দিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় হাইকোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয় এবং চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেদিনই তাকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাদির বর্তমান অবস্থা

শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। জীবন–মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজধানীর বিশেষায়িত এভারকেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। তাকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইনকিলাব মঞ্চ ও হাদির রাজনৈতিক পরিচিতি

শরিফ ওসমান হাদি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক। প্লাটফর্‌মটি ‘সব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ’-এর লক্ষে কাজ করে বলে তিনি দাবি করে আসছেন।

তিনি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বক্তৃতায় নিয়মিত অংশ নেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে শুরু করা তার ব্যতিক্রমী প্রচারণা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের খেলার সূচি: ইউরোপিয়ান ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচের জমজমাট লড়াই

হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ৫৫ ঘণ্টা: ধরা-ছোঁয়ার বাইরে হামলাকারীরা

আপডেট সময় : ১০:০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণের ঘটনার ৫৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি মূল হামলাকারীরা। পুলিশ বলছে, তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং হামলাকারীরা দেশেই রয়েছে। তবে এত কিছুর পরও তারা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আবদুল হান্নানকে গ্রেফতার করে মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারের অভিযোগে আটক আরও দুজনকে এই হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না— তা যাচাইয়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর)

সর্বশেষ রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা হলেন— ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ। এর মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ গুলি চালিয়েছে এবং আলমগীর শেখ মোটরসাইকেল চালকের আসনে ছিল বলে জানান তিনি।

চিহ্নিত এই দুজনকে গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার কোনও তথ্য নেই। তবে তারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য বিজিবিসহ দেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এই ঘোষণা দেন। 

তিনি জানান, দেশের সীমান্ত দিয়ে মানুষ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিষয়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শীর্ষ জুলাই যোদ্ধাদের অনেকের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাজার হাজার জুলাই যোদ্ধার নিরাপত্তা ব্যক্তি পর্যায়ে নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। তবে হাদির মতো যারা সরাসরি হুমকির মুখে বা গান পয়েন্টে রয়েছেন, তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।

অন্যদিকে র‌্যাব জানিয়েছে, ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টা ঘটনার মূল অভিযুক্ত ফয়সালের সই করা বিপুল পরিমাণ চেকবই এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‍্যাব।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর)

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চিহ্নিত হওয়া সন্দেহভাজন হামলাকারীদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে তার এই বক্তব্যের পর আরও ২৪ ঘণ্টা পার হলেও রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত মূল হামলাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ সময় পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও মামলাও হয়নি।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলায় মোটরসাইকেল চালক ও তার পেছনে বসে গুলি করা ব্যক্তিকে আসামি করা হবে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

হামলাকারীর পরিচয় ও অপরাধের তথ্য

পুলিশ শনিবারই ওসমান হাদির ওপর গুলি করা যুবকের নাম–পরিচয় প্রকাশ করে। তার নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। বাবার নাম হুমায়ুন কবির। গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়। পুলিশের পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি ঢাকার আদাবর থানার পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় বসবাস করতেন।

তার বিরুদ্ধে আদাবর থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সদস্য ছিলেন।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটিতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিও ছিলেন তিনি। ওই মামলায় ৭ নভেম্বর র‍্যাব তাকে গ্রেফতার করে। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি মোবাইল ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে অস্ত্র আইনের মামলায় তিন মাস পর তিনি জামিন পান, যা পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হয়। জামিনে বেরিয়ে তিনি পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওসমান হাদির নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

১২ ডিসেম্বর— হামলার দিন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসন্ন সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর পল্টন বক্স কালভার্ট রোড দিয়ে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় হাইকোর্টের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয় এবং চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেদিনই তাকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাদির বর্তমান অবস্থা

শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। জীবন–মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রাজধানীর বিশেষায়িত এভারকেয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। তাকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইনকিলাব মঞ্চ ও হাদির রাজনৈতিক পরিচিতি

শরিফ ওসমান হাদি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ নামে একটি সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক। প্লাটফর্‌মটি ‘সব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণ’-এর লক্ষে কাজ করে বলে তিনি দাবি করে আসছেন।

তিনি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বক্তৃতায় নিয়মিত অংশ নেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়ে শুরু করা তার ব্যতিক্রমী প্রচারণা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।