ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

গভীর আস্থার সংকটে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত: বছরে ৫০০ কোটি ডলার বিদেশে যাচ্ছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা এখনো অধরা। এর ফলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক রোগী উন্নত চিকিৎসার আশায় দেশের বাইরে যাচ্ছেন, যার কারণে দেশ থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা বেরিয়ে যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৩১,০২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা মোট বাজেটের মাত্র ৩.৯৩ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হওয়ায় রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রায় ৪৯ শতাংশ জনগণ গুণগত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।

বর্তমানে প্রতি ১ হাজার জনের বিপরীতে হাসপাতালের শয্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৮৮টি এবং প্রতি ১০ হাজার জনের বিপরীতে নার্সের সংখ্যা ছয়জনেরও কম। দেশের মোট বিশেষায়িত হাসপাতালের ৫৩ শতাংশ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে চরম বৈষম্য বিরাজ করছে।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। রোগীদের মতে, বিদেশে যাওয়ার প্রধান কারণ চিকিৎসার অভাব নয়, বরং রোগ নির্ণয়ের ওপর আস্থার ঘাটতি, অপ্রত্যাশিত বিল ও নিম্নমানের ওষুধ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৩-৭৪ শতাংশই রোগীদের নিজ পকেট থেকে দিতে হয়, যা আঞ্চলিক ও উন্নত দেশের তুলনায় অনেক বেশি।

স্বাস্থ্য-বিমার আওতায় রয়েছে মাত্র ২.৫ শতাংশ মানুষ, ফলে একটি গুরুতর রোগ পরিবারকে দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আস্থা ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বাজেট ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার, বিলিংয়ে স্বচ্ছতা, স্বাধীন অ্যাক্রেডিটেশন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা চালুর ওপর জোর দিয়েছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: ৮ সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত

গভীর আস্থার সংকটে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত: বছরে ৫০০ কোটি ডলার বিদেশে যাচ্ছে

আপডেট সময় : ০১:০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা এখনো অধরা। এর ফলে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক রোগী উন্নত চিকিৎসার আশায় দেশের বাইরে যাচ্ছেন, যার কারণে দেশ থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা বেরিয়ে যাচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৩১,০২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা মোট বাজেটের মাত্র ৩.৯৩ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হওয়ায় রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রায় ৪৯ শতাংশ জনগণ গুণগত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।

বর্তমানে প্রতি ১ হাজার জনের বিপরীতে হাসপাতালের শয্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৮৮টি এবং প্রতি ১০ হাজার জনের বিপরীতে নার্সের সংখ্যা ছয়জনেরও কম। দেশের মোট বিশেষায়িত হাসপাতালের ৫৩ শতাংশ ঢাকা বিভাগে অবস্থিত হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে চরম বৈষম্য বিরাজ করছে।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। রোগীদের মতে, বিদেশে যাওয়ার প্রধান কারণ চিকিৎসার অভাব নয়, বরং রোগ নির্ণয়ের ওপর আস্থার ঘাটতি, অপ্রত্যাশিত বিল ও নিম্নমানের ওষুধ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৩-৭৪ শতাংশই রোগীদের নিজ পকেট থেকে দিতে হয়, যা আঞ্চলিক ও উন্নত দেশের তুলনায় অনেক বেশি।

স্বাস্থ্য-বিমার আওতায় রয়েছে মাত্র ২.৫ শতাংশ মানুষ, ফলে একটি গুরুতর রোগ পরিবারকে দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আস্থা ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য বাজেট ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার, বিলিংয়ে স্বচ্ছতা, স্বাধীন অ্যাক্রেডিটেশন কর্তৃপক্ষ গঠন এবং কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা চালুর ওপর জোর দিয়েছেন।