ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে ‘আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার’

মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষগুলোর মুখ সবার স্মৃতির মণিকোঠায় এখনও সমুজ্জ্বল। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে বিভিন্ন প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে নারীপক্ষ নিয়মিতভাবে ‘আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার’ অনুষ্ঠানটি উদযাপন করে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘চাই সাম্য, মর্যাদা, সুবিচার: বাংলাদেশ তোমার আমার’।

এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ জাকির হোসেন তপন ও ‘জলতরঙ্গ’ দলের গানের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে উপস্থিত সকলে একটি করে আলোর শিখা জ্বালিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। 

আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারীপক্ষ’র বিশেষ এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে গান পরিবেশন করেন ‘চাষাদের মুটেদের মজুরের—’ জাকির হোসেন তপন ও জলতরঙ্গ দল। এরপর স্মৃতিচারণ করেন, শাহীন আনাম-নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও মুক্তিযোদ্ধা মমতা চক্রবর্তী এবং সৈয়দ হাসমী শেলী। আলাউদ্দিন আল আজাদের কবিতা ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ আবৃত্তি করেন আসমা উল হুসনা আঁখি। গান পরিবেশন করেন ‘সোনা সোনা সোনা, লোকে বলে সোনা–’ জাকির হোসেন তপন ও জলতরঙ্গ দল। ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে–’ গান পরিবেশন করেন জাকির হোসেন তপন ও জলতরঙ্গ দল। কাজী নজরুল ইসলাম এর ‘মানুষ’ কবিতা আবৃত্তি করেন ইকবাল আহামেদ।

নারীপক্ষ’র সদস্য রাশিদা হোসেনের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘নারীপক্ষ’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী-জনতার অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল প্রবল। স্বৈরাচারী সরকার দ্বারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের সুবিচার নিশ্চিতকরণ, ঘুণে ধরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রার জন্য উদগ্রীব হয়েছিল এই দেশের মানুষ অথচ বছর না ঘুরতেই দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির ধারা অব্যাহত। সাধারণ মানুষের জান-মাল ও দৈনন্দিন জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। দঙ্গল সন্ত্রাস এবং প্রকাশ্য ও গুপ্ত হত্যা মানুষের জীবনের ওপর সবচেয়ে বড়ো হুমকি। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে স্বল্প আয়ের মানুষ দিশেহারা; অথচ, এসব বন্ধে সরকারের কার্যকর কোনও উদ্যোগই নেই। ন্যায়বিচার তো অনেক দূর। যে কোটা নিয়ে জুলাই আন্দোলনের সূত্রপাত সেই কোটা ফিরে এসেছে নতুন রূপে, নতুন কায়দায়। ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলন হলেও প্রশাসন, রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, কোনও পর্যায় থেকেই বৈষম্য দূরীকরণের প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপই নেই।

‘আমরা চাই শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত এবং ন্যায় ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ রাষ্ট্র, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক পাবে সমান মর্যাদা, সুবিচার ও নিরাপদ জীবনের অধিকার। তাই, আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য “চাই সাম্য, মর্যাদা, সুবিচার: বাংলাদেশ তোমার আমার”।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে ‘আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার’

আপডেট সময় : ১১:০১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষগুলোর মুখ সবার স্মৃতির মণিকোঠায় এখনও সমুজ্জ্বল। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে বিভিন্ন প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে নারীপক্ষ নিয়মিতভাবে ‘আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার’ অনুষ্ঠানটি উদযাপন করে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘চাই সাম্য, মর্যাদা, সুবিচার: বাংলাদেশ তোমার আমার’।

এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ জাকির হোসেন তপন ও ‘জলতরঙ্গ’ দলের গানের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে উপস্থিত সকলে একটি করে আলোর শিখা জ্বালিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। 

আজ শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারীপক্ষ’র বিশেষ এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে গান পরিবেশন করেন ‘চাষাদের মুটেদের মজুরের—’ জাকির হোসেন তপন ও জলতরঙ্গ দল। এরপর স্মৃতিচারণ করেন, শাহীন আনাম-নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও মুক্তিযোদ্ধা মমতা চক্রবর্তী এবং সৈয়দ হাসমী শেলী। আলাউদ্দিন আল আজাদের কবিতা ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ আবৃত্তি করেন আসমা উল হুসনা আঁখি। গান পরিবেশন করেন ‘সোনা সোনা সোনা, লোকে বলে সোনা–’ জাকির হোসেন তপন ও জলতরঙ্গ দল। ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে–’ গান পরিবেশন করেন জাকির হোসেন তপন ও জলতরঙ্গ দল। কাজী নজরুল ইসলাম এর ‘মানুষ’ কবিতা আবৃত্তি করেন ইকবাল আহামেদ।

নারীপক্ষ’র সদস্য রাশিদা হোসেনের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘নারীপক্ষ’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিক্ষার্থী-জনতার অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটি নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল প্রবল। স্বৈরাচারী সরকার দ্বারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের সুবিচার নিশ্চিতকরণ, ঘুণে ধরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন যাত্রার জন্য উদগ্রীব হয়েছিল এই দেশের মানুষ অথচ বছর না ঘুরতেই দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির ধারা অব্যাহত। সাধারণ মানুষের জান-মাল ও দৈনন্দিন জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। দঙ্গল সন্ত্রাস এবং প্রকাশ্য ও গুপ্ত হত্যা মানুষের জীবনের ওপর সবচেয়ে বড়ো হুমকি। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে স্বল্প আয়ের মানুষ দিশেহারা; অথচ, এসব বন্ধে সরকারের কার্যকর কোনও উদ্যোগই নেই। ন্যায়বিচার তো অনেক দূর। যে কোটা নিয়ে জুলাই আন্দোলনের সূত্রপাত সেই কোটা ফিরে এসেছে নতুন রূপে, নতুন কায়দায়। ‘বৈষম্যবিরোধী’ আন্দোলন হলেও প্রশাসন, রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ, কোনও পর্যায় থেকেই বৈষম্য দূরীকরণের প্রক্রিয়া বা পদক্ষেপই নেই।

‘আমরা চাই শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত এবং ন্যায় ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ রাষ্ট্র, যেখানে দেশের প্রতিটি নাগরিক পাবে সমান মর্যাদা, সুবিচার ও নিরাপদ জীবনের অধিকার। তাই, আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য “চাই সাম্য, মর্যাদা, সুবিচার: বাংলাদেশ তোমার আমার”।’