ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই সনদের চূড়ান্ত রূপ: কোন বিষয়ে সম্মতি, কোনটিতে আপত্তি?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

শিগগিরই সই হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘জুলাই সনদ’। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়া পাঠিয়েছে। এই খসড়ায় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যেখানে দলগুলো একমত হয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে রয়ে গেছে ভিন্নমত।

জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে?

১. প্রধানমন্ত্রী পদে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে, অর্থাৎ ১০ বছর থাকতে পারবেন—এই প্রস্তাবে ৩০টি রাজনৈতিক দলই একমত হয়েছে।

২. ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ৩১টি রাজনৈতিক দল ও জোট ঐকমত্য পোষণ করেছে।

৩. অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল।

৪. সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ বা এলাকাভিত্তিক করার পক্ষে ২৯টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে বিএনপির সামান্য মতপার্থক্য ছিল।

৫. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও বিএনপি, জামায়াতসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল ও জোট ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

৬. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনার পক্ষে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছে। তবে ৯টি রাজনৈতিক দল এক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি জানিয়েছে।

৭. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে বিএনপি, জামায়াতসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

৮. জাতীয় সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে ১০০-তে উন্নীত করার বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে বলে সনদে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে?

মোট ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে এই জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যে কয়েকটি প্রস্তাবে কিছু দলের ভিন্নমত রয়েছে:

১. সংবিধান বিলুপ্তি ও স্থগিতকরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ২৯টি রাজনৈতিক দল একমত হলেও, গণফোরাম ও বাংলাদেশ জাসদসহ মোট তিনটি দল এতে ভিন্নমত জানিয়েছে।

২. প্রধানমন্ত্রী পদে যিনি থাকবেন, তিনি দলীয় প্রধান বা সংসদ প্রধানের মতো একাধিক পদে থাকতে পারবেন না—এমন একটি বিধানের পক্ষে ২৫টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তবে বিএনপিসহ ৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট এই বিধানের বিরোধিতা করেছে।

৩. সংসদে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত মতপার্থক্য রয়ে গেছে। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির পক্ষে জামায়াত ও এনসিপিসহ ২৩টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হলেও, বিএনপিসহ ৭টি রাজনৈতিক দল ও জোট এই প্রস্তাবে ভিন্নমত দিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

জুলাই সনদের চূড়ান্ত রূপ: কোন বিষয়ে সম্মতি, কোনটিতে আপত্তি?

আপডেট সময় : ১০:২৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

শিগগিরই সই হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘জুলাই সনদ’। এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত খসড়া পাঠিয়েছে। এই খসড়ায় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যেখানে দলগুলো একমত হয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে রয়ে গেছে ভিন্নমত।

জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছে?

১. প্রধানমন্ত্রী পদে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে, অর্থাৎ ১০ বছর থাকতে পারবেন—এই প্রস্তাবে ৩০টি রাজনৈতিক দলই একমত হয়েছে।

২. ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে মনোনীত হবেন—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ৩১টি রাজনৈতিক দল ও জোট ঐকমত্য পোষণ করেছে।

৩. অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল।

৪. সুপ্রিম কোর্ট বিকেন্দ্রীকরণ বা এলাকাভিত্তিক করার পক্ষে ২৯টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে বিএনপির সামান্য মতপার্থক্য ছিল।

৫. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি নিয়েও বিএনপি, জামায়াতসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল ও জোট ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

৬. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনার পক্ষে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছে। তবে ৯টি রাজনৈতিক দল এক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি জানিয়েছে।

৭. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে বিএনপি, জামায়াতসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে।

৮. জাতীয় সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে ১০০-তে উন্নীত করার বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ সব রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে বলে সনদে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন কোন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে?

মোট ছয়টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হয়েছে এই জুলাই জাতীয় সনদ। এর মধ্যে কয়েকটি প্রস্তাবে কিছু দলের ভিন্নমত রয়েছে:

১. সংবিধান বিলুপ্তি ও স্থগিতকরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ২৯টি রাজনৈতিক দল একমত হলেও, গণফোরাম ও বাংলাদেশ জাসদসহ মোট তিনটি দল এতে ভিন্নমত জানিয়েছে।

২. প্রধানমন্ত্রী পদে যিনি থাকবেন, তিনি দলীয় প্রধান বা সংসদ প্রধানের মতো একাধিক পদে থাকতে পারবেন না—এমন একটি বিধানের পক্ষে ২৫টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তবে বিএনপিসহ ৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট এই বিধানের বিরোধিতা করেছে।

৩. সংসদে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত মতপার্থক্য রয়ে গেছে। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির পক্ষে জামায়াত ও এনসিপিসহ ২৩টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হলেও, বিএনপিসহ ৭টি রাজনৈতিক দল ও জোট এই প্রস্তাবে ভিন্নমত দিয়েছে।