ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চূড়ান্ত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’: যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করছে রাজনৈতিক দলগুলো

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ চূড়ান্ত ভাষ্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে। এই সনদে দলগুলো ১৭ অক্টোবর সই করবে। তবে চূড়ান্ত দলিলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত কোনো সুপারিশ যুক্ত করা হয়নি। কমিশন সূত্র মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছে যে, সই অনুষ্ঠানের পর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো তারা আলাদাভাবে সরকারের কাছে জমা দেবে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর যে খসড়াটি পাঠানো হয়েছিল, এবার সেটিই চূড়ান্ত আকারে পাঠানো হয়েছে। মূল বিষয়বস্তু অপরিবর্তিত রেখে শুধু কিছু ভাষাগত সংশোধন করা হয়েছে। নিচে চূড়ান্ত ভাষ্যের প্রধান অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরা হলো:

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫, বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে, স্বাক্ষরকারী দলগুলো নিম্নোক্ত অঙ্গীকার ও ঘোষণা করছে:

১. দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারও মানুষের জীবনদান, সীমাহীন ক্ষতি ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সুযোগের প্রতিফলন হিসেবে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

২. জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক এবং তাদের অভিপ্রায়কে সর্বোচ্চ আইন হিসেবে গণ্য করে, রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো সম্মিলিতভাবে গৃহীত এই সনদকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করবে।

৩. জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর বৈধতা বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে না। বরং, এই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

৪. গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম, বিশেষ করে ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

৫. গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তি এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সাথে, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, শহীদ পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

৬. জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা— তথা সংবিধান, নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান ও বিদ্যমান আইনসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বা নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

৭. জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করেই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

চূড়ান্ত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’: যে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করছে রাজনৈতিক দলগুলো

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ‘জুলাই জাতীয় সনদের’ চূড়ান্ত ভাষ্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়েছে। এই সনদে দলগুলো ১৭ অক্টোবর সই করবে। তবে চূড়ান্ত দলিলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত কোনো সুপারিশ যুক্ত করা হয়নি। কমিশন সূত্র মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) নিশ্চিত করেছে যে, সই অনুষ্ঠানের পর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো তারা আলাদাভাবে সরকারের কাছে জমা দেবে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর যে খসড়াটি পাঠানো হয়েছিল, এবার সেটিই চূড়ান্ত আকারে পাঠানো হয়েছে। মূল বিষয়বস্তু অপরিবর্তিত রেখে শুধু কিছু ভাষাগত সংশোধন করা হয়েছে। নিচে চূড়ান্ত ভাষ্যের প্রধান অঙ্গীকারগুলো তুলে ধরা হলো:

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫, বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে, স্বাক্ষরকারী দলগুলো নিম্নোক্ত অঙ্গীকার ও ঘোষণা করছে:

১. দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারও মানুষের জীবনদান, সীমাহীন ক্ষতি ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সুযোগের প্রতিফলন হিসেবে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

২. জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক এবং তাদের অভিপ্রায়কে সর্বোচ্চ আইন হিসেবে গণ্য করে, রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো সম্মিলিতভাবে গৃহীত এই সনদকে পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করবে।

৩. জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর বৈধতা বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে না। বরং, এই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

৪. গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম, বিশেষ করে ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

৫. গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তি এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সাথে, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, শহীদ পরিবারকে সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

৬. জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা— তথা সংবিধান, নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান ও বিদ্যমান আইনসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বা নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে।

৭. জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করেই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।