বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু হত্যার বিচার দাবি এবং পুলিশ প্রধান বাহারুল আলমের পদত্যাগ নিশ্চিত করার দাবিতে এবার পুলিশ সদর দপ্তর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ’। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করেন। এই সময় বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা ‘পিন্টু ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’, ‘ছাত্রনেতা পিন্টু হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছিলেন।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচিটি ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ’ আয়োজন করে। এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে অপসারণ এবং তার শাস্তির দাবি জানানো হয়।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানিয়েছেন, বিকেল ৪টার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সরকারী কর্মচারী হাসপাতাল অতিক্রম করে পুলিশ সদর দপ্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। তারা প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে। পরে বুঝিয়ে বলার পর তারা চলে যান এবং এ সময় কোনো ধরনের হাঙ্গামা বা বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার একই ধরনের দাবি নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন। পিন্টু স্মৃতি সংসদের সভাপতি রফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, তারা বর্তমান আইজিপি’র পদত্যাগ দাবি করছেন। তিনি পদত্যাগ না করলে যেন তাকে অপসারণ করা হয়। বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন পিন্টু পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরে গ্রেপ্তার হন এবং কারাবন্দি অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এর পরে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা একত্রিত হয়ে ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ’ গঠন করে।
সংগঠনটির অভিযোগ হলো, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর নাসির উদ্দিন পিন্টুকে ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়িয়ে ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ কৌশল অবলম্বন করে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বর্তমান আইজিপি’র নাম আসার পর থেকেই এই পুলিশ কর্মকর্তাকে অপসারণ, গ্রেপ্তার এবং তার বিচার নিশ্চিতের দাবিতে ‘শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ’ ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও স্মারকলিপি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ মে কারাবন্দি অবস্থায় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন পিন্টুর মৃত্যু হয়। তখন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মৃত ছিলেন। তবে পিন্টুর পরিবার তার এই মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে। নাসির উদ্দিন পিন্টু পিলখানা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামি ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























