আদালতের রায়ের ভিত্তিতে বাগেরহাট জেলায় ১টি আসন বাড়িয়ে ও গাজীপুর জেলায় ১টি আসন কমিয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে এই দুই জেলার আসন আগের মতোই রইলো।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে নির্বাচন কমিশন এই প্রজ্ঞাপন জারি করে।
ইসির জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১ এর ধারা ৬ এবং ধারা ৮ এর অধীন জাতীয় সংসদের পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনি এলাকাগুলোর প্রাথমিক তালিকার প্রজ্ঞাপন ৩০ জুলাই প্রকাশিত হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তির অনুচ্ছেদ ৩ এর অধীন পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনি এলাকার বিষয়ে দাবি, আপত্তি/সুপারিশ ও মতামত আহ্বান করা হয়। যেহেতু, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রজ্ঞাপন ১৮ আগস্ট নির্ধারিত সময়সূচি মোতাবেক প্রাপ্ত দাবি/আপত্তি/সুপারিশ/মতাতের ওপর কমিশন প্রকাশ্য শুনানি গ্রহণ করা হয়। নির্বাচন কমিশন উক্ত আইনের ধারা ৬ এর উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী দাবি/আপত্তি/সুপারিশ/মতামত সম্বলিত দরখাস্তগুলোর তথ্যাবলি পর্যালোচনা এবং শুনানিকালে উপস্থাপিত তথ্য ও যুক্তিতর্ক বিবেচনান্তে প্রাথমিক তালিকায় প্রকাশিত নির্বাচনি এলাকার প্রয়োজনীয় সংশোধন করতঃ জাতীয় সংসদের পুনঃনির্ধারিত নির্বাচনি এলাকাগুলোর চূড়ান্ত তালিকা ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, যেহেতু হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নির্বাচনি এলাকা সংশোধনের বিষয়ে ১ জুন ২০২৩ তারিখ প্রকাশিত গেজেটের বাগেরহাট জেলার অন্তর্গত ৯৫ নম্বর ক্রমিক হতে ৯৮ নম্বর ক্রমিক এবং গাজীপুর জেলার অন্তর্গত ১৯৪ নম্বর ক্রমিক হতে ১৯৮ নম্বর ক্রমিক পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকার সীমানা অক্ষুন্ন রাখার রায় ও আদেশ প্রদান করেছে সেহেতু, হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন এ প্রদত্ত রায় ও আদেশ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রদত্ত রায় ও আদেশ অনুসরণে নির্বাচনি এলাকাগুলো নির্ধারণ সংক্রান্তে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধনক্রমে বাগেরহাট জেলায় ১ (এক)টি আসন বৃদ্ধি এবং গাজীপুর জেলা হতে ১ (এক)টি আসন হ্রাস করত: জাতীয় সংসদের ৩০০ (তিনশত) আসনের পুনঃনির্ধারিত সীমানার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হলো।
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। এতে বাগেরহাটের চারটি থেকে একটি আসন কমানো হয়। এবং গাজীপুরে পাঁচটি থেকে বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়। ওই গেজেট অনুযায়ী বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট নিয়ে বাগেরহাট-১ আসন; ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা নিয়ে বাগেরহাট-২ আসন এবং কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ আসন গঠন করা হয়। সর্বশেষ গেজেটের আগে চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট নিয়ে ছিল বাগেরহাট-১ আসন; বাগেরহাট সদর-কচুয়া নিয়ে ছিল বাগেরহাট-২ আসন; রামপাল-মোংলা নিয়ে ছিল বাগেরহাট-৩ আসন এবং মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা নিয়ে ছিল বাগেরহাট-৪ আসন।
এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের গেজেট চ্যালেঞ্জ করে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন করা হয়। মামলা দুটি করে বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতি। এতে বিবাদী করা হয় বাংলাদেশ সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে।
আবেদনের শুনানি করে গত ১০ নভেম্বর বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের হাই কোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের গেজেট অবৈধ ঘোষণা করে বাগেরহাটের চারটি আসন বহাল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর গত ৩ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেলে নির্বাচন কমিশন ও গাজীপুর-৬ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ আপিলের আবেদন করেন। এছাড়া গাজীপুর–৬ আসন থেকে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হাফিজুর রহমানও আগে আপিল বিভাগে একটি আবেদন করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল এবং ওই আবেদনগুলো একসঙ্গে শুনানির জন্য তোলা হয়। সেই শুনানি শেষে ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের আবেদন নাকচ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। ফলে সীমানার গেজেট সংশোধন করে এখন আগের মতোই বাগেরহাটে চারটি এবং গাজীপুরে পাঁচটি আসনে যেতে হলো ইসিকে।
এদিকে এ দিন দুপুরে সীমানা নিয়ে আদালতে মামলা করা যায় না, কোর্ট কী জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ‘আদালতে মামলা করা যায় না, এটা নিয়ে বলার এখতিয়ার বোধহয় আমার নেই। আদালত যদি কগনিজেন্স নিয়ে থেকে থাকেন, আদালতে নিশ্চয় বলা হচ্ছে। তারপরও যদি আদালত বিবেচনায় না নেন… রায়গুলো ক্ষমতাকে খর্ব করছে কী না যদি বলেন, একঅর্থে একটা প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানে আছে।’
ইসির ক্ষমতা খর্ব হচ্ছে কী অপর এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এটা (ক্ষমতা) প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। খর্ব ও প্রশ্নবিদ্ধের মধ্যে পার্থক্য আছে। খর্ব হচ্ছে বাতিল আর প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ‘কোয়েশ্চনএবল, যেটা…উইচ ক্যান বি চ্যালেঞ্জড।’
রিপোর্টারের নাম 

























