ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বিচারক-কর্মকর্তাদের নিয়ে টিআইবির দিনব্যাপী কর্মশালা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা, বিচার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ও আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলার বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত মামলা, পরিবেশবিষয়ক বিচার ও আইনের শাসন (ক্লাইমেট চেঞ্জ লিটিগেশন, এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডজুডিকেশন & রুল অব ল) শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ছিল জলবায়ু-সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে অংশগ্রহণকারীদের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইন, বিচারিক ন্যায়বিচার এবং প্রয়োগযোগ্য দক্ষতা উন্নয়ন।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবসহ ২৫ জন কর্মকর্তা ও বিচারক অংশ নেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ-বিশেষত ইউএনইপি’র (ইউএনইপি) মূল্যায়ন অনুযায়ী পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগে পিছিয়ে থাকা দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবেশ আদালতের বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা উন্নয়নে টিআইবি এই উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা এ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সচেষ্ট থাকবো।’

প্রশিক্ষণে দিনব্যাপী বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ও পরিবেশ আইনের অধ্যাপক ড. শওকত আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইকরামুল হক। অধিবেশনগুলোতে তারা আইনের শাসন, সুশাসন, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মূলনীতি, বৈশ্বিক ও দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত আইনের ব্যবহার এবং বাংলাদেশের আইনি কাঠামোয় পরিবেশ ও জলবায়ু-সংক্রান্ত বিচারিক প্রতিকার ও প্রয়োগ-বিষয়গুলো গভীরভাবে তুলে ধরেন। দলগত অনুশীলন ও আলোচনা-পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বৈশ্বিক চর্চা এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের বর্তমান ধারণা পুনর্বিবেচনা করেন এবং জলবায়ু অভিযোজন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের বাস্তব প্রয়োগ মূল্যায়ন করেন।

দলগত আলোচনা শেষে বিচারক ও কর্মকর্তারা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, শিল্প ও পরিবেশগত মান নিয়ন্ত্রণসহ কর্মক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা উল্লেখ করেন, পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা এবং নিয়মতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা কার্যকর পরিবেশ সুরক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তারা মত দেন।

উদ্বোধনী সেশন সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক, উপদেষ্টা–নির্বাহী ব্যবস্থাপনা এবং প্রশিক্ষকবৃন্দ। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করে টিআইবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

বিচারক-কর্মকর্তাদের নিয়ে টিআইবির দিনব্যাপী কর্মশালা

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা, বিচার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ও আইন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন জেলার বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত মামলা, পরিবেশবিষয়ক বিচার ও আইনের শাসন (ক্লাইমেট চেঞ্জ লিটিগেশন, এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডজুডিকেশন & রুল অব ল) শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ছিল জলবায়ু-সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তিতে অংশগ্রহণকারীদের সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইন, বিচারিক ন্যায়বিচার এবং প্রয়োগযোগ্য দক্ষতা উন্নয়ন।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা থেকে জেলা ও দায়রা জজ, অতিরিক্ত ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবসহ ২৫ জন কর্মকর্তা ও বিচারক অংশ নেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ-বিশেষত ইউএনইপি’র (ইউএনইপি) মূল্যায়ন অনুযায়ী পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগে পিছিয়ে থাকা দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবেশ আদালতের বিচারক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা উন্নয়নে টিআইবি এই উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও আমরা এ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সচেষ্ট থাকবো।’

প্রশিক্ষণে দিনব্যাপী বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ও পরিবেশ আইনের অধ্যাপক ড. শওকত আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইকরামুল হক। অধিবেশনগুলোতে তারা আইনের শাসন, সুশাসন, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মূলনীতি, বৈশ্বিক ও দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত আইনের ব্যবহার এবং বাংলাদেশের আইনি কাঠামোয় পরিবেশ ও জলবায়ু-সংক্রান্ত বিচারিক প্রতিকার ও প্রয়োগ-বিষয়গুলো গভীরভাবে তুলে ধরেন। দলগত অনুশীলন ও আলোচনা-পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বৈশ্বিক চর্চা এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের বর্তমান ধারণা পুনর্বিবেচনা করেন এবং জলবায়ু অভিযোজন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের বাস্তব প্রয়োগ মূল্যায়ন করেন।

দলগত আলোচনা শেষে বিচারক ও কর্মকর্তারা পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, শিল্প ও পরিবেশগত মান নিয়ন্ত্রণসহ কর্মক্ষেত্রে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তারা উল্লেখ করেন, পরিবেশ আইন বাস্তবায়নে দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা এবং নিয়মতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা কার্যকর পরিবেশ সুরক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তারা মত দেন।

উদ্বোধনী সেশন সঞ্চালনা করেন টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক, উপদেষ্টা–নির্বাহী ব্যবস্থাপনা এবং প্রশিক্ষকবৃন্দ। অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা শেয়ার করে টিআইবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।