মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যায়া নাদেলা ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী চার বছরে (২০২৬-২০২৯) প্রতিষ্ঠানটি ভারতে ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি এশিয়ায় মাইক্রোসফটের সর্বকালের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ।
নাদেলা বলেন, এই বিনিয়োগ ভারতের ‘এআই ফার্স্ট’ ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, দক্ষতা এবং সার্বভৌম সক্ষমতা গড়ে তুলবে। নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ, ক্লাউড ও এআইভিত্তিক পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দেশজুড়ে প্রযুক্তি সক্ষমতা বৃদ্ধিই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য।
এর আগে এবারের জানুয়ারিতে নাদেলা ভারতে দুই বছরে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, যার অংশ ছিল নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপন।
এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানায়, বিনিয়োগটি ভারতে এআই উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশকে গঠনমূলক ডিজিটাল রূপান্তরে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবন প্রসার এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিস’র সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রাখবে। সংস্থাটি অনুমান করছে, ২০২৫ সালে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশ হবে এবং ২০২৬-২০২৭ সালে তা ৬.৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে।
মুডি’স তার গ্লোবাল মাইক্রো আউটলুক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সরকারি পর্যায়ের মূলধন ব্যয় ও স্থিতিশীল গৃহভোগ ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি। যদিও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম, তবে সামগ্রিক গতি অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাইক্রোসফটের ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের এই বরাদ্দ কেবল একটি কোম্পানির বড় বিনিয়োগ নয়, এটি ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো, এআইভিত্তিক প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার। মুডিস’র প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণের সঙ্গে মিল রেখে এ ধরনের বিনিয়োগ দেশকে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, দক্ষ জনবল এবং উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামোর দিকে এগিয়ে নেবে। ভবিষ্যতে এআইভিত্তিক উদ্যোগ, স্টার্টআপ, কর্মসংস্থান ও গুণগত পরিবর্তনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 



















