তাঞ্জানিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী দার এস সালামে মঙ্গলবার ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় সহিংস বিক্ষোভ দমনের প্রতিবাদে কর্মীদের ডাকা আন্দোলন ঠেকাতে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও সেনারা টহলে নেমেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সরকার জানায়, দেশের স্বাধীনতা দিবসে যেকোনও বিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থানের চেষ্টা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ২৯ অক্টোবরের প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটি স্বাধীনতার পর সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার মুখোমুখি হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সহিংসতায় শত শত মানুষ নিহত হন।
দার এস সালামের প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও সেনারা পরিচয়পত্র তল্লাশি করে টহল দিচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট ও একজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, কিছু এলাকায় ছোটখাটো বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। যদিও তা সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে পুলিশের মুখপাত্র কোনও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।
নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হাসান প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নতুন মেয়াদে জিতেছেন। বিরোধী দলের প্রধান প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার পরই এই ফল আসে। গত মাসে তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতার তদন্তের ঘোষণা দেন, যদিও নিরাপত্তাবাহিনী কোনও অনিয়ম করেনি বলে বারবার দাবি করে আসছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা গত সপ্তাহে বলেন, নির্বাচনি সহিংসতায় অন্তত ৭০০ মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। সরকার স্বীকার করেছে যে মানুষ নিহত হয়েছে, তবে নিজেদের কোনও সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে জানায়, বেসামরিক নাগরিকের ওপর সহিংসতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিনিয়োগে বাধার উদ্বেগের কারণে তারা তাঞ্জানিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করছে।
নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে বিরোধী নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছিলেন, সরকার সমালোচকদের নিখোঁজ করছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট হাসান জানিয়েছিলেন, তিনি এসব অপহরণের অভিযোগ তদন্তে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখনও তদন্তের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 



















