মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন | ৩১শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার, ১৫ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত ‘ভুল’ বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া চীনের

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ‘মহাসাগর ও সমুদ্র আইন’ বিষয়ক আলোচনায় কয়েকটি দেশের দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত ভুল বক্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছেন।

সোমবার সুন লেই জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জ ও জলসীমার ওপর চীনের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নাতীত। সংশ্লিষ্ট জলসীমার ওপর চীনের সার্বভৌম অধিকার ও এখতিয়ার রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারের ঐতিহাসিক ও আইনগত ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি মামলা প্রসঙ্গে চীনের অবস্থান অবিচল, স্পষ্ট ও দৃঢ়। এই মামলা আইনের ছদ্মবেশে একটি রাজনৈতিক প্রহসন মাত্র। এটি ‘চুক্তি মেনে চলা’ এবং ‘বিরোধী বক্তব্য নিষিদ্ধ’ করাসহ আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে। এটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন-এরও লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বাস্তব পরিস্থিতির বিরোধী।

চীন এই ‘রায়’ গ্রহণ বা স্বীকার করে না এবং এই ‘রায়’-এর ভিত্তিতে কোনও দাবি বা পদক্ষেপও মেনে নেয় না। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার কোনও অবস্থাতেই এই রায়ের দ্বারা প্রভাবিত হবে না।

সুন লেই উল্লেখ করেন, ফিলিপাইনের ‘সমুদ্র অঞ্চল আইন’ অবৈধভাবে চীনের হুয়াং ইয়ান দ্বীপ ও নানশা দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ প্রবালদ্বীপ এবং সংশ্লিষ্ট জলসীমাকে ফিলিপাইনের সমুদ্র অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারে গুরুতর হস্তক্ষেপ। চীন এর তীব্র বিরোধিতা করছে।

সুন লেই বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও উন্মুক্ত জলপথ। এখানে নৌচলাচল ও উড্ডয়নের স্বাধীনতা নিয়ে কখনোই কোনও সমস্যা ছিল না। বর্তমানে দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম বাড়াচ্ছে এবং বিরোধ ও মতপার্থক্যকে উসকে দিচ্ছে। এটিই দক্ষিণ চীন সাগরের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও জানান, চীন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ সমাধানে বিশ্বাসী। আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে ‘দক্ষিণ চীন সাগর আচরণবিধি’ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই আচরণবিধি চূড়ান্ত করার আলোচনা এগিয়ে নিতে চীন সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে যৌথভাবে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায় এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

সূত্র: সিএমজি

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মুখোমুখি কীর্তি ও রাধিকা, ওটিটিতে ঝড় তুলেছে ‘আক্কা’

30 October 2026

তিন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের সিনেমা 'মাস্টার'

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত ‘ভুল’ বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া চীনের

হালনাগাদ সময় : ০৭:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সুন লেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে ‘মহাসাগর ও সমুদ্র আইন’ বিষয়ক আলোচনায় কয়েকটি দেশের দক্ষিণ চীন সাগর সম্পর্কিত ভুল বক্তব্যের কঠোর জবাব দিয়েছেন।

সোমবার সুন লেই জোর দিয়ে বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জ ও জলসীমার ওপর চীনের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নাতীত। সংশ্লিষ্ট জলসীমার ওপর চীনের সার্বভৌম অধিকার ও এখতিয়ার রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারের ঐতিহাসিক ও আইনগত ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি মামলা প্রসঙ্গে চীনের অবস্থান অবিচল, স্পষ্ট ও দৃঢ়। এই মামলা আইনের ছদ্মবেশে একটি রাজনৈতিক প্রহসন মাত্র। এটি ‘চুক্তি মেনে চলা’ এবং ‘বিরোধী বক্তব্য নিষিদ্ধ’ করাসহ আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে। এটি জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন-এরও লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বাস্তব পরিস্থিতির বিরোধী।

চীন এই ‘রায়’ গ্রহণ বা স্বীকার করে না এবং এই ‘রায়’-এর ভিত্তিতে কোনও দাবি বা পদক্ষেপও মেনে নেয় না। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকার কোনও অবস্থাতেই এই রায়ের দ্বারা প্রভাবিত হবে না।

সুন লেই উল্লেখ করেন, ফিলিপাইনের ‘সমুদ্র অঞ্চল আইন’ অবৈধভাবে চীনের হুয়াং ইয়ান দ্বীপ ও নানশা দ্বীপপুঞ্জের অধিকাংশ প্রবালদ্বীপ এবং সংশ্লিষ্ট জলসীমাকে ফিলিপাইনের সমুদ্র অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারে গুরুতর হস্তক্ষেপ। চীন এর তীব্র বিরোধিতা করছে।

সুন লেই বলেন, দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও উন্মুক্ত জলপথ। এখানে নৌচলাচল ও উড্ডয়নের স্বাধীনতা নিয়ে কখনোই কোনও সমস্যা ছিল না। বর্তমানে দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম বাড়াচ্ছে এবং বিরোধ ও মতপার্থক্যকে উসকে দিচ্ছে। এটিই দক্ষিণ চীন সাগরের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও জানান, চীন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ সমাধানে বিশ্বাসী। আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে ‘দক্ষিণ চীন সাগর আচরণবিধি’ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই আচরণবিধি চূড়ান্ত করার আলোচনা এগিয়ে নিতে চীন সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে যৌথভাবে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায় এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

সূত্র: সিএমজি

Share this news as a Photo Card