ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে চাল এবং কানাডা থেকে সার আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে তিনি জানান, দুই দেশের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় তার প্রশাসন এই শুল্ক আরোপ করতে পারে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকে ট্রাম্প মার্কিন কৃষকদের জন্য শত শত কোটি ডলারের কৃষি ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন এবং একই সঙ্গে ভারতসহ এশীয় দেশগুলো থেকে কৃষিপণ্য আমদানির তীব্র সমালোচনা করেন। রিপাবলিকান এই নেতা অভিযোগ করেন, কৃষিপণ্য আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় উৎপাদকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন কৃষকদের রক্ষায় তিনি আক্রমণাত্মকভাবে শুল্ক ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, প্রশাসন মার্কিন কৃষকদের ১২০০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে, যা বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক রাজস্ব সংগ্রহ করছে, তা থেকে আসবে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, বহু দেশ এমনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নিয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি দাবি করেন, মুদ্রাস্ফীতি ও নিম্ন পণ্যমূল্যের প্রভাবে বিপর্যস্ত খামার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এই সহায়তা অপরিহার্য। ট্রাম্প শুল্ককে মার্কিন কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন।

দীর্ঘ আলোচনায় চাল আমদানি প্রসঙ্গে ভারতকে প্রধান উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। লুইজিয়ানার এক উৎপাদক জানান, ভারতীয় চাল দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ‘ধ্বংসাত্মক’ হয়ে উঠছে। এ সময় ট্রাম্পকে জানানো হয় যে, মার্কিন খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া চালের সবচেয়ে বড় দুটি ব্র্যান্ডই ভারতীয় কোম্পানির মালিকানাধীন। এর উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “ঠিক আছে, আমরা এটা দেখছি। এটা খুবই সহজ… শুল্ক আরোপ করলে দুই মিনিটেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, তাদের (ভারত) ডাম্পিং করা উচিত নয়, এবং এটা চলতে পারে না।

একই সাথে ট্রাম্প কানাডা থেকে আসা সারের ওপরও কঠোর শুল্কের ইঙ্গিত দেন যাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো যায়। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সারের ওপর খুবই কঠোর শুল্ক দেওয়া হবে, কারণ এভাবেই এখানে উৎপাদন জোরদার করা সম্ভব।

গত এক দশকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও, ভর্তুকি, বাজার প্রবেশাধিকার এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) অভিযোগ, বিশেষ করে চাল ও চিনি সংক্রান্ত বিরোধ দুই দেশের আলোচনায় নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর দেওয়া বিশেষ ছাড় প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০৪:০০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত থেকে চাল এবং কানাডা থেকে সার আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে তিনি জানান, দুই দেশের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় তার প্রশাসন এই শুল্ক আরোপ করতে পারে।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকে ট্রাম্প মার্কিন কৃষকদের জন্য শত শত কোটি ডলারের কৃষি ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন এবং একই সঙ্গে ভারতসহ এশীয় দেশগুলো থেকে কৃষিপণ্য আমদানির তীব্র সমালোচনা করেন। রিপাবলিকান এই নেতা অভিযোগ করেন, কৃষিপণ্য আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় উৎপাদকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন কৃষকদের রক্ষায় তিনি আক্রমণাত্মকভাবে শুল্ক ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, প্রশাসন মার্কিন কৃষকদের ১২০০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে, যা বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক রাজস্ব সংগ্রহ করছে, তা থেকে আসবে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, বহু দেশ এমনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নিয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তিনি দাবি করেন, মুদ্রাস্ফীতি ও নিম্ন পণ্যমূল্যের প্রভাবে বিপর্যস্ত খামার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এই সহায়তা অপরিহার্য। ট্রাম্প শুল্ককে মার্কিন কৃষিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন।

দীর্ঘ আলোচনায় চাল আমদানি প্রসঙ্গে ভারতকে প্রধান উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। লুইজিয়ানার এক উৎপাদক জানান, ভারতীয় চাল দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ‘ধ্বংসাত্মক’ হয়ে উঠছে। এ সময় ট্রাম্পকে জানানো হয় যে, মার্কিন খুচরা বাজারে বিক্রি হওয়া চালের সবচেয়ে বড় দুটি ব্র্যান্ডই ভারতীয় কোম্পানির মালিকানাধীন। এর উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “ঠিক আছে, আমরা এটা দেখছি। এটা খুবই সহজ… শুল্ক আরোপ করলে দুই মিনিটেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন, তাদের (ভারত) ডাম্পিং করা উচিত নয়, এবং এটা চলতে পারে না।

একই সাথে ট্রাম্প কানাডা থেকে আসা সারের ওপরও কঠোর শুল্কের ইঙ্গিত দেন যাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো যায়। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সারের ওপর খুবই কঠোর শুল্ক দেওয়া হবে, কারণ এভাবেই এখানে উৎপাদন জোরদার করা সম্ভব।

গত এক দশকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও, ভর্তুকি, বাজার প্রবেশাধিকার এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) অভিযোগ, বিশেষ করে চাল ও চিনি সংক্রান্ত বিরোধ দুই দেশের আলোচনায় নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করছে।