গুলশান থানায় দায়ের হওয়া জুলাইয়ে কামাল হোসেন সবুজ হত্যা মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শামসুদ্দোহা সুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুনানিতে নিজের অসুস্থতার কথা তুলে ধরে নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আমি হার্টের রোগী। গত সপ্তাহে কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ি। টেস্ট করে হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। আমার রাইট বান্ডেল পুরো ব্লক। এ অবস্থায় আবার রিমান্ড দিলে অসুস্থ হয়ে পড়বো। গত ১৫ মাস ধরে জেলে আছি। অনেক মামলায় রিমান্ড হয়েছে। দুদকের ২ মামলায় রিমান্ড না দিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। রিমান্ডে নেওয়া হলে আবার অসুস্থ হয়ে পড়বো।’
নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘আমি ইংলিশে অনার্স, মাস্টার্স। আমাকে প্রয়োজনে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। রিমান্ডে আপত্তি নেই। তবে রিমান্ডে নিলে যেকোনও সময় হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রার্থনা করছি।’
গত ৭ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ধার্য করেন। এ দিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘হাসিনা এক দিনে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠেননি। ১৭ বছর ধরে নজরুল ইসলাম মজুমদারের মত লোকেরা অর্থ দিয়ে, মদদ দিয়ে তাকে ফ্যাসিস্ট হতে সহযোগিতা করেছেন। আন্দোলনকারীরা ভোটাধিকার চেয়েছিল। বিনিময়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। তাদের মধ্যে সবুজও একজন। এই নজরুল ইসলাম মজুমদারের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’
নজরুল ইসলাম মজুমদারের পক্ষে সাদেকুর রহমান তমাল রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘এজাহারে তার নাম নাই। সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর আন্দোলনের সময় তিনি দেশে ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। অর্থ সহায়তা কিভাবে দিয়েছেন তার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি অসুস্থ, বয়স্ক একজন মানুষ। তার রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’
রিপোর্টারের নাম 
























