হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের নতুন এক বিতর্কিত পরিকল্পনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোল আদায়ের যে পরিকল্পনা ইরান নিয়েছে, তা কার্যকর হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই জলপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার হারে টোল আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে, যা একটি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তেহরানের দাবি, এই অর্থ তারা জাতীয় পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করবে। তবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের ফি আরোপ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশনের পরিপন্থী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে শুধুমাত্র তেলের দামই বাড়বে না, বরং জাহাজ ভাড়া, বীমা খরচ এবং নাবিকদের ঝুঁকিভাতা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে ১০০ ডলারের উপরে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের মুখে থাকা ইরান এই টোল থেকে পাওয়া অর্থ নিজস্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ব্যবহারের কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























