মোবাইল ব্যবসায়ীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন ব্যাবসায়ীরা।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে মোবাইল ব্যবসায়ীরা এ কথা জানান।
সংগঠনের নেতারা বলেন, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে, পাশাপাশি সারা দেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা একযোগে আন্দোলনের নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মোবাইল ব্যবসায়ীরা বলেন, বিটিআরসি আলোচনায় আমাদের দাবির ব্যাপারে কোনও আশ্বাস না দেওয়ায় আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবো।
এর আগে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নের আগে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা ও নীতিমালা সংস্কারসহ বেশকিছু দাবিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সামনে রবিবার সকাল থেকে অবস্থান নেন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সভাপতি মো. আসলাম সাংবাদিকদের জানান, এনইআইআর সিস্টেম চালুর সময় এক বছর পেছানোর দাবি জানানো হলেও কমিশন থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। তাই সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
দেশে ১৬ ডিসেম্বর থেকে হ্যান্ডসেট নিবন্ধন বা এনইআইআর সিস্টেম চালু হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ২৫ হাজার মোবাইল ব্যবসায়ী উদ্বিগ্ন।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের কাছে বর্তমানে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ৫০ লাখ হ্যান্ডসেট মজুত আছে। ব্যবসায়ীরা চান এসব হ্যান্ডসেট শুল্ক দিয়ে বৈধ করার সুযোগ পেতে। এছাড়া, এনইআইআর চালুর আগে শুল্ক হার ৫৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার দাবি রয়েছে। তারা মোবাইল আমদানির প্রক্রিয়াও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে তাদের বিটিআরসি ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে সড়ক আটকে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সেইসঙ্গে বেগ পেতে হচ্ছে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত তিনটি প্রধান বিশেষায়িত হাসপাতালের (শিশু, পঙ্গু ও নিউরোসায়েন্সেস) রোগীদেরও। হাসপাতালগুলোতে প্রবেশ ও বের হতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সও বের করতে বেগ পেতে হচ্ছে।
সকাল থেকে চলা আন্দোলনের একপর্যায়ে রবিবার সন্ধ্যায় আগারগাঁও মোড় থেকে বিটিআরসি ভবনের সামনে পর্যন্ত অন্তত চার জায়গায় আগুন জ্বালান বিক্ষোভকারীরা। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রাস্তার এক পাশ ছেড়ে দেন ব্যবসায়ীরা। তবে বিটিআরসির সামনের সড়কে বিক্ষোভ করছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিটিআরসি ভবনের সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।
মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের ফলে ওই সড়কসহ আশপাশে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজটের। অনেকে দীর্ঘসময় যানজটে আটকা থেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে যাচ্ছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। যানজটে দীর্ঘসময় আটকে থেকে বিরক্ত হয়ে বিভিন্ন যানবাহনের চালক, মোটরসাইকেল আরোহীরা আন্দোলনকারীদের গালমন্দও করছেন। তবে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে বারবার মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, লোকজনের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় না জড়ানোর জন্য।
আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে একজনকে হ্যান্ড মাইকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা কিচ্ছু দেখি না। আমরা কিচ্ছু শুনি না। যে যাই বলে বলুক, আপনারা কারও সঙ্গে হাতাহাতি করবেন না।’
রিপোর্টারের নাম 






















