দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের একটি সরকারি জাহাজে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা’ দিয়ে ক্ষতি করার অভিযোগ এনেছে ম্যানিলা। তবে চীন এই সংঘর্ষের জন্য উল্টো ফিলিপাইনকেই দায়ী করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, ফিলিপাইনের জাহাজটি ‘বিপজ্জনকভাবে’ তাদের জাহাজের কাছে চলে এসেছিল।
ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ফিলিপাইনের মৎস্য ব্যুরোর জাহাজ বিআরপি দাতু পাগবুয়ার দিকে চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজ থেকে প্রথমে জলকামান নিক্ষেপ করা হয়। এর কয়েক মিনিট পরই একই চীনা জাহাজটি ফিলিপাইনের জাহাজটির পেছনের অংশে ‘ইচ্ছাকৃত ধাক্কা’ দেয়। যদিও এতে জাহাজের সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমডোর জে টারিয়েলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চীনের এই ‘আক্রমণাত্মক কার্যক্রম’কে সরাসরি ‘গুন্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন।
টারিয়েলার পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চীন ও ফিলিপাইনের জাহাজের মধ্যে সামান্য সংঘর্ষের পর ফিলিপাইনের জাহাজটি দারুণ কৌশলে চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে চীনা জাহাজকে ফিলিপাইনের জাহাজের দিকে জলকামান নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।
ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড প্রধান অ্যাডমিরাল রনি গিল গাভান বলেছেন, এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের ভূখণ্ডের এক বর্গ ইঞ্চিও কোনো বিদেশি শক্তির কাছে সমর্পণ না করার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে, চীন এক বিবৃতিতে ফিলিপাইনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনা কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র লিউ দেজুন অভিযোগ করেছেন, ফিলিপাইনের জাহাজটি চীনের পক্ষ থেকে বারবার পাঠানো কঠোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বিপজ্জনকভাবে তাদের জাহাজের দিকে এগিয়ে আসায় এই সংঘর্ষ ঘটেছে। তিনি এর পুরো দায় ফিলিপাইনের বলে অভিযোগ করেন।
দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এই এলাকায় ফিলিপাইন ও চীনা জাহাজের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে থিটু দ্বীপের কাছাকাছি স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের বিতর্কিত অংশে বেইজিং বছরের পর বছর ধরে নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। তবে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি ট্রাইব্যুনাল এর আগে রায় দিয়েছিল যে চীনের এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
এদিকে, বেইজিং বারবার ম্যানিলার বিরুদ্ধে বিতর্কিত এই অংশে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে বলেছে, ফিলিপাইন মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 























