ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নীরব এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কি কাগজেই থেকে যাবে

হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত নীরব এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এসব এলাকায় হর্ন বাজানো পুরোপুরি নিষেধ। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে নীরব এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কি কাগজেই থেকে যাবে?

সম্প্রতি ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিধিমালাটি করা হয়। গত ২৪ নভেম্বর এই বিধিমালার গেজেট প্রকাশের পর নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। তবে রাজধানীতে নীরব এলাকায় কীভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্য নীরব এলাকায় শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আবাসিক এলাকার মধ্যে শিল্প কারখানা; বড় বড় সড়কের পাশে আবাসিক এলাকা, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও করা হয়েছে। ফলে নীরব এলাকা হলেও শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

বিধিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগ) ড. ফাহমিদা খানম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিধিমালার গেজেট প্রকাশের পরই তা কার্যকর হয়েছে।’

বিধিমালা কার্যকরের; বিশেষ করে নীরব এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সম্ভব জানতে চাইলে পরিবেশবিদ ওয়াটারকিপার বাংলাদেশের সমন্বয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের কার্যনির্বাহী সদস্য শরীফ জামিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নীরব এলাকা যেগুলোকে ঘোষণা করা আছে সেসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ হয়। যেমন-সচিবালয় এলাকা। আইন আগেই ছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন বিধিমালা করা হয়েছে। যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে সবচেয়ে ভালো। বাস্তবায়ন করা না গেলে এর কোনও মানে নেই।’

ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শব্দদূষণের আওতামুক্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাত্রা নির্ধারণ করা যেত কিনা জানতে চাইলে এই পরিবেশবিদ বলেন, ‘যেকোনও ক্ষেত্রেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সব ধরনের স্টেক হোল্ডারদের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বিধিমালা করা উচিত, তা হয়েছে কিনা? যদি তা না করা হয়, তাহলে মাত্রা নির্ধারণ করে দিলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মুসলিম উম্মাহর নেতা ও ইসলামি ফাউন্ডেশন, সামাজিক আন্দোলনের নেতা সবাইকে নিয়ে বসে আলোচনা করে নীতিমালায় কী থাকবে না থাকবে, কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে, ক্ষেত্র বিশেষে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের মাত্রা নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে আলোচনা করে ঠিক করা হলে ভালো হতো। সবাইকে নিয়ে না করলে নানা বিষয়ে প্রশ্ন আসে। উচিত হলো, এ ধরনের বিধিমালা করার ক্ষেত্রে আলোচনা করা। তা না হলে বাস্তবায়ন করা যায় না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবেশবিদ বলেন, ‘আইন ও বিধিমালা করে তা যদি বাস্তবায়ন না করা যায়, তাহলে কাগুজে আইন বা বিধি হয়ে থাকবে। বাস্তবে এর কোনও ফল আমরা পাবো না। তা যেন না হয়।’

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ইতোপূর্বে বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই দফা। দফায় দফায় জরিমানাও করা হয়েছে। কিন্তু হর্ন বাজানো বন্ধ হয়নি। একইভাবে নীরব এলাকা ঘোষিত হাসপাতাল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বিগত সময়।

নীরব এলাকা

হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বা একই ধরনের অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানসহ তার চারপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত এলাকা নীরব এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এসব এলাকায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্লেস বা জনপরিসরে লাউড স্পিকার, উচ্চশব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

এলাকাভিত্তিক শব্দের মানমাত্রা

নীরব এলাকা– দিনে ৫০ ডেসিবেল, রাতে ৪০ ডেসিবেল। আবাসিক এলাকা– দিনে ৫৫ ডেসিবেল, রাতে ৪৫ ডেসিবেল। মিশ্র এলাকা– দিনে ৬০ ডেসিবেল, রাতে ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকা– দিনে ৭০ ডেসিবেল, রাতে ৬০ ডেসিবেল। শিল্প এলাকা– দিনে ৭৫ ডেসিবেল, রাতে ৭০ ডেসিবেল।

দিন হিসেবে ধরা হয়েছে ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং রাত হিসেবে ধরা হয়েছে রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। ডেসিবেল বলতে মানুষের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষের নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী শব্দের গড় মাত্রাকে বোঝাবে, যা ডেসিবেল এক্সেলে নির্দেশিত।

মোটরযান বা যান্ত্রিক নৌ-যানজনিত শব্দের অনুমোদিত মানমাত্রা

দুই বা তিন চাকার হালকা যান ৮৫ ডেসিবেল, অন্যান্য হালকা যান (কার, মাইক্রোবাস, পিক-আপ ভ্যান ইত্যাদি) ৮৫ ডেসিবেল, মাঝারি যান (মিনি বাস, মাঝারি ট্রাক, মাঝারি কাভার্ডভ্যান ইত্যাদি) ৯০ ডেসিবেল, ভারী যান (বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি ইত্যাদি) ১০০ ডেসিবেল এবং নৌযান ১০০ ডেসিবেল (শব্দের উৎস থেকে ১ দশমিক ৫ মিটার দূরে)।

যেসব এলাকায় বিধিমালা কার্যকর হবে না

শব্দদূষণ রোধে জারি করা এই বিধিমালায়, সমজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা বা অন্য কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ঈদের জামাত, জানাজা, নাম-সংকীর্তন এবং শবযাত্রাসহ ধর্মীয় অন্যান্য আবশ্যিক অনুষ্ঠান, সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য প্রচার কাজে, প্রতিরক্ষা, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দাফতরিক কাজে, স্বাধীনতা, জাতীয় দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ, মহররম বা সরকার ঘোষিত অন্য কোনও গ্ররুত্বপূর্ণ দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে শব্দদূষণ বিধিমালা কার্যকর হবে না।

অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার ব্রিগেড ব্যবহারকালে, ইফতার ও সেহরির সময় প্রচারকালে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনও বিপদ বা বিপদের আশঙ্কায় বিপদ সংকেত প্রচারকালে, মৃত্যু সংবাদ প্রচারকালে, কোনও ব্যক্তি নিখোঁজ থাকলে বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হারানোর বিষয় প্রচারকালে এই বিধিমালার বিধান কার্যকর হবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিহিংসার বশে তরমুজ ক্ষেতে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ: পাঁচ কৃষকের ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি

নীরব এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কি কাগজেই থেকে যাবে

আপডেট সময় : ০৭:০৪:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত নীরব এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এসব এলাকায় হর্ন বাজানো পুরোপুরি নিষেধ। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে নীরব এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কি কাগজেই থেকে যাবে?

সম্প্রতি ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিধিমালাটি করা হয়। গত ২৪ নভেম্বর এই বিধিমালার গেজেট প্রকাশের পর নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। তবে রাজধানীতে নীরব এলাকায় কীভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্য নীরব এলাকায় শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। আবাসিক এলাকার মধ্যে শিল্প কারখানা; বড় বড় সড়কের পাশে আবাসিক এলাকা, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও করা হয়েছে। ফলে নীরব এলাকা হলেও শব্দ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

বিধিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগ) ড. ফাহমিদা খানম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিধিমালার গেজেট প্রকাশের পরই তা কার্যকর হয়েছে।’

বিধিমালা কার্যকরের; বিশেষ করে নীরব এলাকায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সম্ভব জানতে চাইলে পরিবেশবিদ ওয়াটারকিপার বাংলাদেশের সমন্বয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের কার্যনির্বাহী সদস্য শরীফ জামিল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নীরব এলাকা যেগুলোকে ঘোষণা করা আছে সেসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ হয়। যেমন-সচিবালয় এলাকা। আইন আগেই ছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন বিধিমালা করা হয়েছে। যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে সবচেয়ে ভালো। বাস্তবায়ন করা না গেলে এর কোনও মানে নেই।’

ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শব্দদূষণের আওতামুক্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মাত্রা নির্ধারণ করা যেত কিনা জানতে চাইলে এই পরিবেশবিদ বলেন, ‘যেকোনও ক্ষেত্রেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সব ধরনের স্টেক হোল্ডারদের মতামত ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বিধিমালা করা উচিত, তা হয়েছে কিনা? যদি তা না করা হয়, তাহলে মাত্রা নির্ধারণ করে দিলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। মুসলিম উম্মাহর নেতা ও ইসলামি ফাউন্ডেশন, সামাজিক আন্দোলনের নেতা সবাইকে নিয়ে বসে আলোচনা করে নীতিমালায় কী থাকবে না থাকবে, কীভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে, ক্ষেত্র বিশেষে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের মাত্রা নির্ধারণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে আলোচনা করে ঠিক করা হলে ভালো হতো। সবাইকে নিয়ে না করলে নানা বিষয়ে প্রশ্ন আসে। উচিত হলো, এ ধরনের বিধিমালা করার ক্ষেত্রে আলোচনা করা। তা না হলে বাস্তবায়ন করা যায় না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবেশবিদ বলেন, ‘আইন ও বিধিমালা করে তা যদি বাস্তবায়ন না করা যায়, তাহলে কাগুজে আইন বা বিধি হয়ে থাকবে। বাস্তবে এর কোনও ফল আমরা পাবো না। তা যেন না হয়।’

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ইতোপূর্বে বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই দফা। দফায় দফায় জরিমানাও করা হয়েছে। কিন্তু হর্ন বাজানো বন্ধ হয়নি। একইভাবে নীরব এলাকা ঘোষিত হাসপাতাল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি বিগত সময়।

নীরব এলাকা

হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বা একই ধরনের অন্য কোনও প্রতিষ্ঠানসহ তার চারপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত এলাকা নীরব এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এসব এলাকায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্লেস বা জনপরিসরে লাউড স্পিকার, উচ্চশব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।

এলাকাভিত্তিক শব্দের মানমাত্রা

নীরব এলাকা– দিনে ৫০ ডেসিবেল, রাতে ৪০ ডেসিবেল। আবাসিক এলাকা– দিনে ৫৫ ডেসিবেল, রাতে ৪৫ ডেসিবেল। মিশ্র এলাকা– দিনে ৬০ ডেসিবেল, রাতে ৫০ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকা– দিনে ৭০ ডেসিবেল, রাতে ৬০ ডেসিবেল। শিল্প এলাকা– দিনে ৭৫ ডেসিবেল, রাতে ৭০ ডেসিবেল।

দিন হিসেবে ধরা হয়েছে ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং রাত হিসেবে ধরা হয়েছে রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। ডেসিবেল বলতে মানুষের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষের নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী শব্দের গড় মাত্রাকে বোঝাবে, যা ডেসিবেল এক্সেলে নির্দেশিত।

মোটরযান বা যান্ত্রিক নৌ-যানজনিত শব্দের অনুমোদিত মানমাত্রা

দুই বা তিন চাকার হালকা যান ৮৫ ডেসিবেল, অন্যান্য হালকা যান (কার, মাইক্রোবাস, পিক-আপ ভ্যান ইত্যাদি) ৮৫ ডেসিবেল, মাঝারি যান (মিনি বাস, মাঝারি ট্রাক, মাঝারি কাভার্ডভ্যান ইত্যাদি) ৯০ ডেসিবেল, ভারী যান (বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, লরি ইত্যাদি) ১০০ ডেসিবেল এবং নৌযান ১০০ ডেসিবেল (শব্দের উৎস থেকে ১ দশমিক ৫ মিটার দূরে)।

যেসব এলাকায় বিধিমালা কার্যকর হবে না

শব্দদূষণ রোধে জারি করা এই বিধিমালায়, সমজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা বা অন্য কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ঈদের জামাত, জানাজা, নাম-সংকীর্তন এবং শবযাত্রাসহ ধর্মীয় অন্যান্য আবশ্যিক অনুষ্ঠান, সরকারি বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য প্রচার কাজে, প্রতিরক্ষা, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দাফতরিক কাজে, স্বাধীনতা, জাতীয় দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখ, মহররম বা সরকার ঘোষিত অন্য কোনও গ্ররুত্বপূর্ণ দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে শব্দদূষণ বিধিমালা কার্যকর হবে না।

অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার ব্রিগেড ব্যবহারকালে, ইফতার ও সেহরির সময় প্রচারকালে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোনও বিপদ বা বিপদের আশঙ্কায় বিপদ সংকেত প্রচারকালে, মৃত্যু সংবাদ প্রচারকালে, কোনও ব্যক্তি নিখোঁজ থাকলে বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হারানোর বিষয় প্রচারকালে এই বিধিমালার বিধান কার্যকর হবে না।