মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি খাতে একচেটিয়া ব্যবস্থার অবসান: বেসরকারি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে সরকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদা মেটানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশীয় বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে জ্বালানি খাতের একচেটিয়া রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের এই কাঠামোটি বর্তমান সময়ের বিশাল শিল্পায়ন, পরিবহন খাত ও কৃষির চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বিপিসিকে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকের জন্য জ্বালানি কেনার রেশনিং বা দৈনিক সীমা বেঁধে দিতে হয়েছিল। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামোর দেশে জ্বালানি তেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বারবার সরবরাহ সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির চাপ থেকে মুক্তি পেতে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য জ্বালানি তেলের বাজার উন্মুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। এই ঘোষণাকে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বহু পুরোনো কাঠামো বদলে ফেলার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (ICB)-এর চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তিনি টেলিকমিউনিকেশন খাতের উদাহরণ টেনে বলেন, যখন ওই খাতটিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন অনেকের মধ্যে বিরোধিতার সুর ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর মতে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা ভারতের মতো দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে আকার, তাতে একা পেট্রোবাংলার পক্ষে সমস্ত চাহিদা সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্র সরাসরি ব্যবসা না করলেও বাজারের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতেই থাকতে হবে। আমদানির অনুমোদন, পণ্যের গুণগত মান, মজুত সক্ষমতা, মূল্য নির্ধারণ এবং মুনাফার সীমা তদারকির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC)-কে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (DCCI) সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদও সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতার পূর্বে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতেই অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা করেছিল, পরে তা জাতীয়করণ করা হয়। ফলে বেসরকারি খাতকে জ্বালানি ব্যবসায় যুক্ত করার ধারণাটি বাংলাদেশের জন্য একেবারে নতুন কিছু নয়। তাঁর মতে, বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে জ্বালানি খাতের অনুসন্ধান, সঞ্চালন ও বিতরণে বেসরকারি খাত স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। স্বাধীন ও দক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি অংশগ্রহণের ফলে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই, বরং সেবার পরিধি ও মান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে, বিপিসির দীর্ঘদিনের একক নিয়ন্ত্রণের ফলে জ্বালানি খাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংস্থারই সাবেক এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, ওই সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই সরকারকে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের সিস্টেম লস ও ভর্তুকি গুণতে হয়। অসাধু এই গোষ্ঠীটি নিজেদের দীর্ঘদিনের সুবিধা হারানোর ভয়ে জ্বালানি খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার ঘোর বিরোধিতা করছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই করতে হলে সরকারকে কঠোর শর্ত আরোপ করতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেল আমদানি করবে, তাদের নিজস্ব বা নিয়ন্ত্রিত পর্যাপ্ত মজুতব্যবস্থা, জেটি, পরিবহন ও শক্ত বিতরণ নেটওয়ার্ক থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও দেশের বাজারে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে এবং রিফাইনারি (Refinery) স্থাপনেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এখন আর কেবল সরকারি দপ্তরের ফাইল বা ব্যবস্থাপনার বিষয় নেই; এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সঠিক নীতি প্রণয়ন এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগের এই পথকে প্রশস্ত করা গেলে আজকের এই জ্বালানি সংকট আগামী দিনের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম বড় হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা আজ

জ্বালানি খাতে একচেটিয়া ব্যবস্থার অবসান: বেসরকারি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ১০:২৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির চাহিদা মেটানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশীয় বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে জ্বালানি খাতের একচেটিয়া রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের এই কাঠামোটি বর্তমান সময়ের বিশাল শিল্পায়ন, পরিবহন খাত ও কৃষির চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বিপিসিকে ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস ও ট্রাকের জন্য জ্বালানি কেনার রেশনিং বা দৈনিক সীমা বেঁধে দিতে হয়েছিল। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামোর দেশে জ্বালানি তেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বারবার সরবরাহ সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির চাপ থেকে মুক্তি পেতে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য জ্বালানি তেলের বাজার উন্মুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে এবং তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। এই ঘোষণাকে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বহু পুরোনো কাঠামো বদলে ফেলার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (ICB)-এর চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনে বেসরকারি খাতকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তিনি টেলিকমিউনিকেশন খাতের উদাহরণ টেনে বলেন, যখন ওই খাতটিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন অনেকের মধ্যে বিরোধিতার সুর ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর মতে, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা ভারতের মতো দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা উচিত। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির যে আকার, তাতে একা পেট্রোবাংলার পক্ষে সমস্ত চাহিদা সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্র সরাসরি ব্যবসা না করলেও বাজারের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতেই থাকতে হবে। আমদানির অনুমোদন, পণ্যের গুণগত মান, মজুত সক্ষমতা, মূল্য নির্ধারণ এবং মুনাফার সীমা তদারকির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC)-কে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (DCCI) সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদও সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, স্বাধীনতার পূর্বে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতেই অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসা করেছিল, পরে তা জাতীয়করণ করা হয়। ফলে বেসরকারি খাতকে জ্বালানি ব্যবসায় যুক্ত করার ধারণাটি বাংলাদেশের জন্য একেবারে নতুন কিছু নয়। তাঁর মতে, বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে জ্বালানি খাতের অনুসন্ধান, সঞ্চালন ও বিতরণে বেসরকারি খাত স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। স্বাধীন ও দক্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি অংশগ্রহণের ফলে জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই, বরং সেবার পরিধি ও মান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে, বিপিসির দীর্ঘদিনের একক নিয়ন্ত্রণের ফলে জ্বালানি খাতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংস্থারই সাবেক এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, ওই সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই সরকারকে প্রতি বছর বিপুল অঙ্কের সিস্টেম লস ও ভর্তুকি গুণতে হয়। অসাধু এই গোষ্ঠীটি নিজেদের দীর্ঘদিনের সুবিধা হারানোর ভয়ে জ্বালানি খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার ঘোর বিরোধিতা করছে। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই করতে হলে সরকারকে কঠোর শর্ত আরোপ করতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেল আমদানি করবে, তাদের নিজস্ব বা নিয়ন্ত্রিত পর্যাপ্ত মজুতব্যবস্থা, জেটি, পরিবহন ও শক্ত বিতরণ নেটওয়ার্ক থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও দেশের বাজারে নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ করার সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে এবং রিফাইনারি (Refinery) স্থাপনেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এখন আর কেবল সরকারি দপ্তরের ফাইল বা ব্যবস্থাপনার বিষয় নেই; এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। সঠিক নীতি প্রণয়ন এবং কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগের এই পথকে প্রশস্ত করা গেলে আজকের এই জ্বালানি সংকট আগামী দিনের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম বড় হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন বিশেষজ্ঞরা।