রাজশাহী প্রতিনিধি:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজশাহীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) অভিযোগপত্রে কয়েকজন আলোচিত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে ৩৮ জনের নাম থাকলেও, স্থানীয় আন্দোলনকারী ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বিশেষ করে সাবেক এমপি শফিকুর রহমান বাদশা, সাবেক এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, সাবেক কাউন্সিলর তরিকুল আলম পল্টু, যুবলীগের রাজশাহী মহানগরীর সাবেক সভাপতি রমজান আলী, বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান কালু এবং নগর আওয়ামী লীগের নেতা মীর ইস্তিয়াক আহম্মেদ লেমনের নাম অভিযোগপত্রে থাকা উচিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে সহিংসতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে তরিকুল আলম পল্টুর নাম বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। আলী রায়হান ও সাকিব আঞ্জুম হত্যা মামলার আসামি হিসেবে বর্তমানে কারাগারে থাকা পল্টু রাজশাহীর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তালাইমারীর সাবেক কাউন্সিলর। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকায় দলটির সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আন্দোলনের সময় তার নেতৃত্বে একাধিক হামলার অভিযোগও রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে পল্টুর নাম না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।
পল্টু বর্তমানে কারাগারে থাকলেও পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, পল্টু আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে তার পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।
মহানগরীর তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান টেনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় পল্টুকে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। ৫ আগস্ট আলুপট্টি এলাকায় আলী রায়হান ও আনজুম নিহত হওয়ার আগেও তাকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। পল্টুর বিরুদ্ধে শাকিব ও আলী রায়হান হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে নাম রয়েছে এবং অভিযোগপত্রেও তার নাম থাকার কথা ছিল বলে তিনি জানান।
রিপোর্টারের নাম 





















