মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শাহজালাল: ২০২৪ সালে চালু এআই নজরদারিতে সুফল

গুরুতর অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কিংবা বিদেশ থেকে অপরাধ করে দেশে ফেরা—কোনো ক্ষেত্রেই আর পার পাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি কার্যকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কেবল অপরাধীর একটি ছবি থাকলেই, বিমানবন্দরের অদৃশ্য জাল তাকে মুহূর্তেই শনাক্ত করে ফেলছে, যার ফলস্বরূপ দ্রুত গ্রেপ্তার সম্ভব হচ্ছে।

চোরাচালান রোধেও এই প্রযুক্তি আনছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সোনার তরল বা পেস্টের মতো নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করে পাচারকারীরা প্রথাগত স্ক্যানার এড়াতে পারলেও, শাহজালালে যুক্ত হওয়া অত্যাধুনিক গোল্ড ডিটেকশন মেশিন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধাতব বস্তু ও সোনা শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি ছাড়াই চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যাপক সাফল্য আসছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অদৃশ্য জাল ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম এবং উচ্চ সংবেদনশীল গোল্ড ডিটেকশন প্রযুক্তি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিগত সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই ডিজিটাল নজরদারি চালু হয়েছিল, যা বর্তমানে আরও সুসংহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে অপরাধ করে কোনো ব্যক্তি পাসপোর্ট ছাড়া বা ভিন্ন পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা তার একটি ছবি বিমানবন্দরে দায়িত্বরত সংস্থাকে সরবরাহ করলেই প্রযুক্তি তার কাজ শুরু করে দেয়। ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম স্পর্শকাতর এলাকা যেমন অ্যারাইভাল ও ডিপার্চার টার্মিনাল, বোর্ডিং ব্রিজ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং কার্গো ভিলেজে বসানো হাই-টেক এআই ক্যামেরার সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যে ওই ব্যক্তির মুখমণ্ডল ম্যাচ করে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়।

শুধু অপরাধী শনাক্তকরণই নয়, বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ অস্বাভাবিক আচরণ করলে কিংবা কোনো পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকলেও এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্ক করে। এই সমন্বিত ব্যবস্থা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারের অধীনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে শাশুড়ি হত্যা মামলা: ১৪ বছর পর ঘাতক জামাতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় শাহজালাল: ২০২৪ সালে চালু এআই নজরদারিতে সুফল

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

গুরুতর অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কিংবা বিদেশ থেকে অপরাধ করে দেশে ফেরা—কোনো ক্ষেত্রেই আর পার পাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি কার্যকর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কেবল অপরাধীর একটি ছবি থাকলেই, বিমানবন্দরের অদৃশ্য জাল তাকে মুহূর্তেই শনাক্ত করে ফেলছে, যার ফলস্বরূপ দ্রুত গ্রেপ্তার সম্ভব হচ্ছে।

চোরাচালান রোধেও এই প্রযুক্তি আনছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সোনার তরল বা পেস্টের মতো নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করে পাচারকারীরা প্রথাগত স্ক্যানার এড়াতে পারলেও, শাহজালালে যুক্ত হওয়া অত্যাধুনিক গোল্ড ডিটেকশন মেশিন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধাতব বস্তু ও সোনা শনাক্ত করতে সক্ষম। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি ছাড়াই চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যাপক সাফল্য আসছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অদৃশ্য জাল ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম এবং উচ্চ সংবেদনশীল গোল্ড ডিটেকশন প্রযুক্তি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিগত সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এই ডিজিটাল নজরদারি চালু হয়েছিল, যা বর্তমানে আরও সুসংহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে অপরাধ করে কোনো ব্যক্তি পাসপোর্ট ছাড়া বা ভিন্ন পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা তার একটি ছবি বিমানবন্দরে দায়িত্বরত সংস্থাকে সরবরাহ করলেই প্রযুক্তি তার কাজ শুরু করে দেয়। ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম স্পর্শকাতর এলাকা যেমন অ্যারাইভাল ও ডিপার্চার টার্মিনাল, বোর্ডিং ব্রিজ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার এবং কার্গো ভিলেজে বসানো হাই-টেক এআই ক্যামেরার সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যে ওই ব্যক্তির মুখমণ্ডল ম্যাচ করে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেয়।

শুধু অপরাধী শনাক্তকরণই নয়, বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ অস্বাভাবিক আচরণ করলে কিংবা কোনো পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকলেও এআই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্ক করে। এই সমন্বিত ব্যবস্থা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারের অধীনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।