বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেশি বা বিদেশি যে পক্ষের হাতেই থাকুক না কেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভার পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি (ইকোনমিক টেকঅফ) নিশ্চিত করতে জোর দিয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে শিল্পায়ন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার (Ease of Doing Business) ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়িক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত খরচ কমানোর লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো পোর্ট ও কাস্টমসের সমন্বয়ে একটি ‘জয়েন্ট কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কমিটি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান করবে। এর ফলে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত হবে, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো প্রকার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ চলবে না। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে পণ্য খালাস বা কাস্টমসে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
চট্টগ্রামকে আগামী দিনের উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমানে চট্টগ্রাম সফরে রয়েছেন। এডিবি এই অঞ্চলকে একটি বৃহৎ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা চট্টগ্রামের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে।
সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কাস্টমসের জটিলতা দূর করা এবং ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে শিল্পের খরচ কমানোর আহ্বান জানানো হয়, যার বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
রিপোর্টারের নাম 





















