মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষমতা ও সাংবিধানিক ভূমিকা: বিএনপি সরকারের বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি পদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে রাষ্ট্রপতি পদের ভূমিকা এবং সংবিধানের আলোকে এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তাঁর ক্ষমতা মূলত আলংকারিক। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে খুব বেশি কিছু করতে পারেন না। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অন্য সকল ক্ষেত্রে, যেমন সংসদ আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়া, বিলে সম্মতি প্রদান, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, যুদ্ধ ঘোষণা, শান্তি চুক্তি অনুমোদন এবং ক্ষমা প্রদর্শনের মতো বিষয়গুলোতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য, যা সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হিসেবে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিই ক্ষমতার মূল উৎস হয়ে উঠতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এবং সময়ের সাথে সাথে এই পদের ভূমিকার পরিবর্তন নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। যদিও বর্তমানে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদকে অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়, একসময় এই পদাধিকারীরাই ছিলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং পদত্যাগের মতো ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনতার রায় উপেক্ষা করে কেউ টিকতে পারেনি, ফ্যাসিবাদ রুখবে যুবসমাজ: জামায়াত আমির

রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষমতা ও সাংবিধানিক ভূমিকা: বিএনপি সরকারের বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০২:২০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি পদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে রাষ্ট্রপতি পদের ভূমিকা এবং সংবিধানের আলোকে এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তাঁর ক্ষমতা মূলত আলংকারিক। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে খুব বেশি কিছু করতে পারেন না। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অন্য সকল ক্ষেত্রে, যেমন সংসদ আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়া, বিলে সম্মতি প্রদান, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, যুদ্ধ ঘোষণা, শান্তি চুক্তি অনুমোদন এবং ক্ষমা প্রদর্শনের মতো বিষয়গুলোতে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য, যা সংবিধানের ৫৬(৩) অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদাধিকারী হিসেবে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিই ক্ষমতার মূল উৎস হয়ে উঠতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এবং সময়ের সাথে সাথে এই পদের ভূমিকার পরিবর্তন নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। যদিও বর্তমানে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদকে অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়, একসময় এই পদাধিকারীরাই ছিলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং পদত্যাগের মতো ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল নয়।