২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত আন্দোলনের সময়কার সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগপন্থী পক্ষ থেকে সেগুলোকে ‘ফেক ভিডিও’ বা ‘প্রোপাগান্ডা’ আখ্যা দিয়ে অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। কোনো ধরনের বৈধতা যাচাই ছাড়াই তারা এসব ভিডিওকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিত এবং ঘটনাগুলোকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করত। দুই বছর পর, ২০২৬ সালেও এই একই কৌশল অব্যাহত রয়েছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ চলমান ঘটনাগুলোকে অস্বীকার করার যে রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছে, তা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সচেতন ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ।
অস্বীকার বা ডিনায়ালের রাজনীতি: এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো, চোখের সামনে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নকে অস্বীকার করা এবং ছাত্র-জনতার প্রতিরোধকেও গুরুত্বহীন করে তোলা। তারা মনে করে, যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধী নিজের অপরাধ স্বীকার না করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই। এই ‘ডিনায়াল’ বা অস্বীকারের রাজনীতি কেবল আওয়ামী লীগেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও অনেক পক্ষ এই কৌশলকে সমর্থন করে চলেছে।
দ্বিমুখী অস্বীকার: কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে স্বীকার করলেও, জুলাইয়ের সময়কার ছাত্র-জনতার প্রতিরোধকে ক্রমাগত অস্বীকার করে। অথচ, জুলাই অভ্যুত্থানে দুটি প্রধান দিক ছিল: একদিকে শেখ হাসিনা সরকারের দ্বারা ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালানো এবং অন্যদিকে রাস্তায় ছাত্র-জনতার প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আওয়ামী লীগ সরাসরিভাবে তাদের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অস্বীকার করে, যা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সচেতন রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়মুক্তি খোঁজার চেষ্টা করে।
রিপোর্টারের নাম 



















