মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

পীরগঞ্জে নারী নির্যাতন: আমবাগানে আটকে নগ্ন ভিডিও ধারণের অভিযোগ, থানায় মামলা

রংপুরের পীরগঞ্জে এক নারীকে জনসম্মুখে মারধর, আমবাগানে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা এবং নগ্ন ভিডিও ধারণের পর তার স্বামীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে রবিবার রাতে পীরগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন জড়িত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন (১৯) উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের শরিফেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্তরা হলেন—তারেক মিয়া (২২), বাবু মিয়া (২৩), মিরাজুল মিয়া (২৪), হিমেল মিয়া (২১) এবং নাঈম মিয়া (২০)।

থানায় জমা দেওয়া অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীর বয়ান অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাবেয়া তার স্বামী রিজু মিয়া এবং প্রতিবেশী আবদুল হালিম মিয়ার সঙ্গে কুমেদপুর বাজার থেকে নিজ বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে কাঁচামরিচ কেনার জন্য তার স্বামী রিজু মিয়া পুনরায় বাজারে চলে যান। এরপর রাবেয়া ও আবদুল হালিম বাড়ির দিকে রওনা হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা তারেক মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকেই সেখানে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন যুবক তাদের পথ আটকায়। এ সময় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ আরোপ করা হয় এবং আবদুল হালিমের কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একপর্যায়ে আবদুল হালিম কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এরপর রাবেয়া খাতুনকে জোরপূর্বক একটি আমবাগানে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি চিৎকার করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তার পরনের কাপড় খুলে মোবাইল ফোনে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর রাবেয়াকে আমবাগানে আটকে রেখে তার স্বামী রিজু মিয়ার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা, প্রায় ৪০ হাজার টাকা, দাবি করা হয়। এ সময় ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা যা বলতে বাধ্য করে, তা-ও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে, ৮ আগস্ট ভোর চারটার দিকে রাবেয়ার স্বামীকে ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে রাবেয়ার স্বামী রিজু মিয়া, প্রতিবেশী আবদুল হালিম মিয়াসহ আরও কয়েকজন অবগত আছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তারা একটি ষড়যন্ত্রের শিকার।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসির ফলাফলে বড় বিপর্যয়: ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী

পীরগঞ্জে নারী নির্যাতন: আমবাগানে আটকে নগ্ন ভিডিও ধারণের অভিযোগ, থানায় মামলা

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জে এক নারীকে জনসম্মুখে মারধর, আমবাগানে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা এবং নগ্ন ভিডিও ধারণের পর তার স্বামীর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে রবিবার রাতে পীরগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন জড়িত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন (১৯) উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের শরিফেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্তরা হলেন—তারেক মিয়া (২২), বাবু মিয়া (২৩), মিরাজুল মিয়া (২৪), হিমেল মিয়া (২১) এবং নাঈম মিয়া (২০)।

থানায় জমা দেওয়া অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীর বয়ান অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে রাবেয়া তার স্বামী রিজু মিয়া এবং প্রতিবেশী আবদুল হালিম মিয়ার সঙ্গে কুমেদপুর বাজার থেকে নিজ বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। পথে কাঁচামরিচ কেনার জন্য তার স্বামী রিজু মিয়া পুনরায় বাজারে চলে যান। এরপর রাবেয়া ও আবদুল হালিম বাড়ির দিকে রওনা হন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা তারেক মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকেই সেখানে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন যুবক তাদের পথ আটকায়। এ সময় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ আরোপ করা হয় এবং আবদুল হালিমের কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। একপর্যায়ে আবদুল হালিম কোনোমতে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এরপর রাবেয়া খাতুনকে জোরপূর্বক একটি আমবাগানে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি চিৎকার করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তার পরনের কাপড় খুলে মোবাইল ফোনে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর রাবেয়াকে আমবাগানে আটকে রেখে তার স্বামী রিজু মিয়ার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা, প্রায় ৪০ হাজার টাকা, দাবি করা হয়। এ সময় ভয় দেখিয়ে অভিযুক্তরা যা বলতে বাধ্য করে, তা-ও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে, ৮ আগস্ট ভোর চারটার দিকে রাবেয়ার স্বামীকে ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে রাবেয়ার স্বামী রিজু মিয়া, প্রতিবেশী আবদুল হালিম মিয়াসহ আরও কয়েকজন অবগত আছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তারা একটি ষড়যন্ত্রের শিকার।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।