রংপুরের পীরগাছায় এক ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য সাভারে পরিচালিত একটি অভিযানে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ লাইনে সংযুক্ত এই চারজনের মধ্যে দুই জন কর্মকর্তা এবং বাকি দুজন কনস্টেবল। শনিবার রাতে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মন, এ এসআই মো. ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার এবং সুমী আক্তার একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে ঘরছাড়া এক ছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে অভিযানে যান। নিহতের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই অভিযানে জিডির বাদী আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু মিয়া এবং তার শ্যালক মিন্টু সাধারণ পোশাকে পুলিশের সাথে ছিলেন। অভিযানের এক পর্যায়ে সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি মোনারুল ইসলাম বকশীকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ স্বজন, এলাকাবাসী এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা পীরগাছা থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিকসহ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, নিহত মোনারুল ইসলাম বকশী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিবান্ধা গ্রামের জাফর আলীর ছেলে। বাবার চাকরির সুবাদে তিনি সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সেলিম মালিক জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্তে ঢাকা এবং রংপুরে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, অভিযানে অংশ নেওয়া পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলামও জানিয়েছেন, পীরগাছা থানাকে সহযোগিতা করতে এসআই আব্দুল হাইসহ দুজন কনস্টেবল সেখানে গিয়েছিলেন। তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 


















