বগুড়ার শেরপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবক বাছাই প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। মেধার ভিত্তিতে নির্বাচনের কথা থাকলেও একই ব্যক্তি সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী—দুই পদেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়াও, একই ওয়ার্ড থেকে আপন ভাই-বোন তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসেন স্বাক্ষরিত ফলাফলে এই তথ্য উঠে আসে, যা স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের হোসেন আলীর ছেলে আইয়ুব আলী একই সাথে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী—দুই পদেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। অন্যদিকে, খামারকান্দি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান, মেহেদি হাসান ও রিক্তি জাহান ইতি, তথ্য সংগ্রহকারী পদে নির্বাচিত হয়েছেন, যা ভাই-বোন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, একটি ওয়ার্ডে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ওই পরিবারের দুই সদস্যই ছিলেন কিনা এবং অন্য যোগ্য প্রার্থীরা বাদ পড়লেন কেন।
বাছাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রকাশ না করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কে কত নম্বর পেয়েছেন, মেধাক্রমে কার অবস্থান কোথায় এবং কোন মানদণ্ডে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হোক। তাদের প্রশ্ন, মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়ে থাকলে মেধার হিসাব প্রকাশে আপত্তি কোথায়? পরীক্ষার নম্বর ও মেধাক্রম প্রকাশ করা হলে বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে এবং প্রকৃত মেধাবীরা বাদ পড়েছেন কি না, তাও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তারা।
বাছাইয়ের মৌখিক পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন পরীক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, প্রার্থীদের নাম, বাবার নাম ও রোল নম্বরের মতো সাধারণ পরিচয়সংক্রান্ত প্রশ্নের মধ্যেই মৌখিক পরীক্ষা সীমাবদ্ধ ছিল। এমনকি ট্যাবে তথ্য লিখতে গিয়ে প্রয়োজনীয় অক্ষর খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়লেও কেউ কেউ মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে রাফছানি মিরাজি কেয়া অভিযোগ করেন যে, ২১৩ জন আবেদনকারীর মধ্যে ফলাফলে ২১৪ নম্বর সিরিয়াল নির্বাচিত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো মাঠ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করা হয়নি কেন?
রিপোর্টারের নাম 




















