ভারতের ছত্তীসগঢ় হাই কোর্ট প্রশ্নফাঁসকে ‘খুনের চেয়েও ভয়ঙ্কর অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এই সংক্রান্ত একটি মামলায় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতিরা প্রশ্নফাঁসকে কেন এত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
বর্তমানে দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই এবং সম্প্রতি ৯৪ পাতার একটি চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হয়েছে। ছত্তীসগঢ় এবং ঝাড়খণ্ডেও এই ধরনের প্রশ্নফাঁস নিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ছত্তীসগঢ় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (CGPSC) পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। সিবিআইয়ের তদন্তে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা জীবনকিশোর ধ্রুবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সে সময় সিজিপিএসসি-র সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি তার ছেলের পিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক হওয়ার জন্য পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়েছিলেন।
তবে জীবনকিশোর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, তিনি সে সময় পিএসসি-র সচিব ছিলেন বলেই তাকে নিশানা করা হচ্ছে। এই যুক্তিতেই তিনি ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। গত ৩১ জুলাই বিচারপতি বিভু দত্ত গুরু এই মামলার রায় স্থগিত রেখেছিলেন এবং বুধবার সেই রায় ঘোষণা করে তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেন বা এর চেষ্টা করেন, তারা লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেন। এই ধরনের অপরাধ খুন করার চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর। কারণ, কাউকে খুন করলে কেবল একটি পরিবারের উপর তার প্রভাব পড়ে। কিন্তু প্রশ্নফাঁস করলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে সমাজের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই ওই আইএএস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর বলে আদালত মনে করছে।
রিপোর্টারের নাম 






















