নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে অস্ত্র ও মাদকসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন টিটু (৩১) বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাহানাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক, চুরি ও জখমসহ বেগমগঞ্জ থানায় সাতটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের হক ম্যানশনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, ৪০ পিস ইয়াবা, নগদ ২৭ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন এবং এ ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। অভিযানকালে টিটুর সঙ্গে থাকা অপর তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
চাঁদাবাজির খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) লিয়াকত আকবর ও সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল হক ম্যানশন ঘেরাও করে। ভবনের সিঁড়িতে সন্দেহভাজন অবস্থায় টিটুকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে উল্লিখিত সামগ্রী উদ্ধার হয়।
পরে টিটুকে নিয়ে চারতলার একটি বাসায় গেলে ভুক্তভোগী নাঈমা আক্তার (১৮) ও তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি আরও দুজন সহযোগীকে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা আগে বাসায় প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং বাসা থেকে ২৭ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বুধবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ তিনটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
রিপোর্টারের নাম 

























