জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নেতাদের ওপর ছাত্রদলের অতর্কিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জকসু। মঙ্গলবার (২০২৬ সালের) এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থী সংসদ এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কাণ্ড’ আখ্যায়িত করে দ্রুত বিচার দাবি করেছে।
বিবৃতিতে জকসু জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, ৭ একর জমিতে ১৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে ‘ইনকিলাব মঞ্চে’র আহ্বায়ক ও জকসু’র স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক মো. নূর মোহাম্মদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। এ সময় ছাত্রদল ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের প্ল্যাকার্ড কেড়ে নেয় এবং জোরপূর্বক বের করে দেয়।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে জকসু’র ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ জকসু’র অন্যান্য নেতারা উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।
কিছুক্ষণ পর প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং অন্যথায় জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এর পরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অডিটোরিয়াম থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা হ্যান্ডমাইক ভাঙচুর করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নির্বিচারে হামলা শুরু করে। এই হামলায় জকসু’র নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং নারী শিক্ষার্থীরাও রেহাই পাননি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে তারা ছাত্রশক্তির আহ্বায়কসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপরও সন্ত্রাসী কায়দায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ পরিচালনা করে ক্যাম্পাসে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।
বিশেষভাবে জকসু’র ভিপি রিয়াজুল ইসলামকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই জকসু’র জিএস আব্দুল আলিম আরিফের ওপর দলবদ্ধভাবে হামলা করে তার মাথা ফাটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। জকসু’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা এখনো ক্যাম্পাসে ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের খুঁজে খুঁজে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
রিপোর্টারের নাম 



















