মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব: বাবার কষ্ট লাঘবের স্বপ্ন অধরা রেখেই প্রাণ হারালেন হাফেজ সুমন

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রাণ হারানো হাফেজ মো. সুমন পাটোয়ারী (২১) এর শাহাদাতবরণের ঘটনা আজও তার পরিবারকে শোকাহত করে। দরিদ্র ভ্যানচালক বাবার কষ্ট লাঘবের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছিলেন সুমন, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। সেদিনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের ওমর ফারুক ও মর্জিনা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে সুমন ছিলেন সবার বড়। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় সুমনের বাবা ওমর ফারুকের মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে সকালে গুলিতে নিহত হয়েছেন তার ছেলে সুমন।

ওই রাতেই স্বজন আব্দুল খালেককে সঙ্গে নিয়ে ছেলের মরদেহ আনতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ওমর ফারুক। পরদিন ৬ আগস্ট ভোরে তারা ঢাকায় পৌঁছান এবং আশুলিয়া থানার আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুমনের মরদেহ নিয়ে দিনাজপুরের পথে রওয়ানা হন। পরে ৬ আগস্ট রাতে এশার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সুমনের সহপাঠী রুরেল জানান, গত ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যায় এবং সুমনসহ অনেকেই আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট সকালে সুমনসহ তারা গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন চলাকালে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে এবং একপর্যায়ে গুলিতে সুমনসহ অনেকেই আহত হন।

রুরেলের ভাষ্যমতে, সুমনকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সড়কের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের একটি ভ্যান তার মরদেহ আশুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুমনের মা মর্জিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলে সর্বশেষ এক মাস আগে ঢাকায় গিয়েছিল। যাওয়ার সময় বলেছিল, বাবা অসুস্থ মানুষ, তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী। বাবা যেন বেশি পরিশ্রম না করেন। ঢাকা থেকে এসে বাবাকে ভালো ডাক্তার দেখাবে বলেছিল। কিন্তু বাবার চিকিৎসা করানোর আগেই সুমন চলে গেল।” সুমনের ছোট বোন উর্মি ও ছোট ভাই শিহাব জানান, তাদের ভাই ঢাকা যাওয়ার সময় পরিবারের জন্য অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যা আজ অধরা রয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুম প্রতিরোধ আইন, ২০২৬: ‘অধিকারের’ গভীর উদ্বেগ, সংশোধনের দাবি

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব: বাবার কষ্ট লাঘবের স্বপ্ন অধরা রেখেই প্রাণ হারালেন হাফেজ সুমন

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রাণ হারানো হাফেজ মো. সুমন পাটোয়ারী (২১) এর শাহাদাতবরণের ঘটনা আজও তার পরিবারকে শোকাহত করে। দরিদ্র ভ্যানচালক বাবার কষ্ট লাঘবের স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছিলেন সুমন, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। সেদিনের আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের ওমর ফারুক ও মর্জিনা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে সুমন ছিলেন সবার বড়। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় সুমনের বাবা ওমর ফারুকের মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিয়ে সকালে গুলিতে নিহত হয়েছেন তার ছেলে সুমন।

ওই রাতেই স্বজন আব্দুল খালেককে সঙ্গে নিয়ে ছেলের মরদেহ আনতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন ওমর ফারুক। পরদিন ৬ আগস্ট ভোরে তারা ঢাকায় পৌঁছান এবং আশুলিয়া থানার আইনি প্রক্রিয়া শেষে সুমনের মরদেহ নিয়ে দিনাজপুরের পথে রওয়ানা হন। পরে ৬ আগস্ট রাতে এশার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সুমনের সহপাঠী রুরেল জানান, গত ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যায় এবং সুমনসহ অনেকেই আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট সকালে সুমনসহ তারা গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলন চলাকালে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে এবং একপর্যায়ে গুলিতে সুমনসহ অনেকেই আহত হন।

রুরেলের ভাষ্যমতে, সুমনকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সড়কের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের একটি ভ্যান তার মরদেহ আশুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুমনের মা মর্জিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ছেলে সর্বশেষ এক মাস আগে ঢাকায় গিয়েছিল। যাওয়ার সময় বলেছিল, বাবা অসুস্থ মানুষ, তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী। বাবা যেন বেশি পরিশ্রম না করেন। ঢাকা থেকে এসে বাবাকে ভালো ডাক্তার দেখাবে বলেছিল। কিন্তু বাবার চিকিৎসা করানোর আগেই সুমন চলে গেল।” সুমনের ছোট বোন উর্মি ও ছোট ভাই শিহাব জানান, তাদের ভাই ঢাকা যাওয়ার সময় পরিবারের জন্য অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, যা আজ অধরা রয়ে গেছে।