মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নেই মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা তখনই জানানো সম্ভব হবে, যখন বাংলাদেশে একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, কেবল আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবগাঁথা স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই সংগ্রামের মূল কারণগুলো দূর করে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে না হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট, ২০২৬) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতি হিসেবে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাসে বারবার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়েই আমাদের এগোতে হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। ফলস্বরূপ, প্রতিটি প্রজন্মকেই কোনো না কোনোভাবে গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য নতুন করে সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহীদদের স্মরণ কিংবা আত্মত্যাগের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করাই যথেষ্ট নয়; বরং কেন রাষ্ট্রকে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেই কারণগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে তার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই আজকের প্রধান দায়িত্ব। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে আত্মতৃপ্তির বিষয় হিসেবে না দেখে, বরং একটি নির্মম বাস্তবতার শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বাংলাদেশিকে একই ধরনের বাধ্যবাধকতার মুখোমুখি হতে না হয়।

রাষ্ট্রের নাগরিকের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বহু যোগ্য ও মেধাবী মানুষ তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার সুযোগ পান না। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হওয়া উচিত।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্তি নির্ভর করে তার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর। সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের কার্যকর ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র টেকসই হয় না। সাম্প্রতিক অতীতে আমরা এর অভাব দেখেছি, যা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণে কাজ করে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুম প্রতিরোধ আইন, ২০২৬: ‘অধিকারের’ গভীর উদ্বেগ, সংশোধনের দাবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নেই মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা তখনই জানানো সম্ভব হবে, যখন বাংলাদেশে একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, কেবল আন্দোলন-সংগ্রামের গৌরবগাঁথা স্মরণ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই সংগ্রামের মূল কারণগুলো দূর করে এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করতে না হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট, ২০২৬) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’ উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতি হিসেবে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পূর্বাপর ইতিহাসে বারবার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়েই আমাদের এগোতে হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। ফলস্বরূপ, প্রতিটি প্রজন্মকেই কোনো না কোনোভাবে গণতন্ত্র, অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য নতুন করে সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহীদদের স্মরণ কিংবা আত্মত্যাগের ইতিহাস নিয়ে গর্ব করাই যথেষ্ট নয়; বরং কেন রাষ্ট্রকে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেই কারণগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে তার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই আজকের প্রধান দায়িত্ব। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে আত্মতৃপ্তির বিষয় হিসেবে না দেখে, বরং একটি নির্মম বাস্তবতার শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বাংলাদেশিকে একই ধরনের বাধ্যবাধকতার মুখোমুখি হতে না হয়।

রাষ্ট্রের নাগরিকের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বহু যোগ্য ও মেধাবী মানুষ তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার সুযোগ পান না। এই বাস্তবতা পরিবর্তন করাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হওয়া উচিত।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্তি নির্ভর করে তার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ওপর। সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের কার্যকর ভারসাম্য, জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্র টেকসই হয় না। সাম্প্রতিক অতীতে আমরা এর অভাব দেখেছি, যা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণে কাজ করে যাচ্ছে।