মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

ছাত্রদলের হামলার নিন্দা ইউটিএলের, অবরুদ্ধ শিক্ষকদের দ্রুত মুক্তির দাবি

দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। সংগঠনটি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং অবরুদ্ধ শিক্ষকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউটিএলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান এই নিন্দা জানান। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার ও মঙ্গলবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় এসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

ইউটিএল অভিযোগ করেছে, আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানেও ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে এবং হাসপাতালকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এতে আহতদের দেখতে যাওয়া ইউটিএলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ওমর ফারুককেও ছাত্রদলের কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, মতপ্রকাশ এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের ক্ষেত্র। কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা সাংবাদিকের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন অথবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইউটিএল সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে তারা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, সহনশীল ও ভীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার এবং অবরুদ্ধ শিক্ষকদের দ্রুত মুক্ত করার আহ্বান জানান।

ইউটিএল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মতপার্থক্যের সমাধান সংলাপ, যুক্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত, সহিংসতা বা প্রতিহিংসার মাধ্যমে নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ: দেশে ফিরলে আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ছাত্রদলের হামলার নিন্দা ইউটিএলের, অবরুদ্ধ শিক্ষকদের দ্রুত মুক্তির দাবি

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)। সংগঠনটি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং অবরুদ্ধ শিক্ষকদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউটিএলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান এই নিন্দা জানান। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার ও মঙ্গলবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় এসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

ইউটিএল অভিযোগ করেছে, আহত শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানেও ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে এবং হাসপাতালকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এতে আহতদের দেখতে যাওয়া ইউটিএলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. ওমর ফারুককেও ছাত্রদলের কর্মীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, মতপ্রকাশ এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের ক্ষেত্র। কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা সাংবাদিকের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন অথবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইউটিএল সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে তারা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, সহনশীল ও ভীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার এবং অবরুদ্ধ শিক্ষকদের দ্রুত মুক্ত করার আহ্বান জানান।

ইউটিএল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মতপার্থক্যের সমাধান সংলাপ, যুক্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত, সহিংসতা বা প্রতিহিংসার মাধ্যমে নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।