মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

গুম তদন্তে পুলিশ নয়, মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়ার দাবি ইসলামী আন্দোলনের

প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জোর দাবি জানিয়েছে, গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দিতে হবে। তাদের মতে, গুম একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকায় পুলিশের তদন্তে এর প্রতিকার সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই দাবি করেন। তিনি বলেন, সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ ও এর বিশেষায়িত শাখার মাধ্যমেই গুম সংঘটিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামরিক বা আধাসামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততাও দেখা যায়। তাই গুমের অপরাধ তদন্তের জন্য স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া না হলে এর সুষ্ঠু প্রতিকার মিলবে না।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও উল্লেখ করেন, গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই খসড়ায় গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতে রাখার বিধান করা হয়েছে। অথচ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারি করা অধ্যাদেশে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল।

দলের মহাসচিব বলেন, গুম প্রতিরোধ আইনে বেশ কিছু ভালো ধারা থাকলেও, পুলিশের তদন্তভার থাকলে গুমকে গুম হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে। ফলে ওই ধারাগুলো সক্রিয় হতে পারবে না। সভায় অন্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম-মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান এবং দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ: দেশে ফিরলে আইনি প্রতিকার চাইতে পারবেন, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

গুম তদন্তে পুলিশ নয়, মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষমতা দেওয়ার দাবি ইসলামী আন্দোলনের

আপডেট সময় : ০৮:১৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি জোর দাবি জানিয়েছে, গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দিতে হবে। তাদের মতে, গুম একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পৃক্ততা থাকায় পুলিশের তদন্তে এর প্রতিকার সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক নিয়মিত সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই দাবি করেন। তিনি বলেন, সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ ও এর বিশেষায়িত শাখার মাধ্যমেই গুম সংঘটিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সামরিক বা আধাসামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততাও দেখা যায়। তাই গুমের অপরাধ তদন্তের জন্য স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া না হলে এর সুষ্ঠু প্রতিকার মিলবে না।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও উল্লেখ করেন, গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই খসড়ায় গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতে রাখার বিধান করা হয়েছে। অথচ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারি করা অধ্যাদেশে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল।

দলের মহাসচিব বলেন, গুম প্রতিরোধ আইনে বেশ কিছু ভালো ধারা থাকলেও, পুলিশের তদন্তভার থাকলে গুমকে গুম হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে। ফলে ওই ধারাগুলো সক্রিয় হতে পারবে না। সভায় অন্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম-মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান এবং দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।